ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / 39

ফিস্টুলা চিকিৎসা

শেরপুরের নব্বই ঊর্ধ্ব বানেসা বিবির দুই কন্যা জামেলা ও জামিলা প্রসবকালীন জটিলতার কারণে দীর্ঘ দুই দশক অবস্টেট্রিক ফিস্টুলা নামক এক যন্ত্রণাদায়ক রোগে ভুগে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। অবহেলা আর কুসংস্কারের কারণে এই প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধিটি তাদের জীবনকে নরকপ্রায় করে তুলেছিল।

অবশেষে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএর (UNFPA) বিশেষ সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়ে নতুন করে বাঁচার অধিকার ফিরে পেয়েছেন।

গ্রামীণ জনপদে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সুবিধার অভাবে শত শত প্রসূতি নারী এখনও এক নীরব শারীরিক ও সামাজিক অভিশাপের শিকার হচ্ছেন। লোকলজ্জা আর সচেতনতার অভাবে অনেকেই এই ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকার যন্ত্রণাকেই নিয়তি বলে মেনে নেন।

মূলত ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ শিরোনামের এই মানবিক প্রতিবেদনটি আমাদের গ্রামীণ জনস্বাস্থ্যের এক অন্ধকার দিক এবং তা থেকে উত্তরণের এক আশাজাগানিয়া গল্প তুলে ধরে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সফল অপারেশনের ফলে দীর্ঘ ২৫ বছর পর মর্যাদার সাথে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন আক্রান্ত দুই বোন।

প্রসবের সময় সঠিক সময়ে সিজারিয়ান বা চিকিৎসাসেবা না মেলায় নারীদের জন্মপথে যে ছিদ্র তৈরি হয়, তার ফলেই এই ফিস্টুলা রোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ করা ৫৫ বছর বয়সী জামেনা এবং ৪৫ বছরের জামিলা দুজনেই সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে এই মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। অনবরত অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব ঝরা ও দুর্গন্ধের কারণে নিজের নাতনি পর্যন্ত জামিলার কাছে আসত না এবং জামেনা তার গৃহকর্মীর চাকরি হারানোর ভয়ে এই রোগটি বহু বছর গোপন রেখেছিলেন।

কানাডা সরকারের অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএর মাঠপর্যায়ের মিডওয়াইফ বা ধাত্রীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শেরপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের এখন সচেতন করা হচ্ছে। বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ করার এই ঘটনাটি দেখে এলাকার অন্য নারীরাও এখন লোকাল কমিউনিটি ক্লিনিকে আসতে শুরু করেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, হাসপাতালে সন্তান প্রসবের চেয়ে বাড়িতে প্রসব করানো সস্তা— এমন প্রাচীন ও ক্ষতিকারক সামাজিক ধারণা বা কুসংস্কার এখন সরকারি ও বেসরকারি নানামুখী প্রচারণার মাধ্যমে দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

শেরপুরের নব্বই ঊর্ধ্ব বানেসা বিবির দুই কন্যা জামেলা ও জামিলা প্রসবকালীন জটিলতার কারণে দীর্ঘ দুই দশক অবস্টেট্রিক ফিস্টুলা নামক এক যন্ত্রণাদায়ক রোগে ভুগে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। অবহেলা আর কুসংস্কারের কারণে এই প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধিটি তাদের জীবনকে নরকপ্রায় করে তুলেছিল।

অবশেষে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএর (UNFPA) বিশেষ সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়ে নতুন করে বাঁচার অধিকার ফিরে পেয়েছেন।

গ্রামীণ জনপদে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সুবিধার অভাবে শত শত প্রসূতি নারী এখনও এক নীরব শারীরিক ও সামাজিক অভিশাপের শিকার হচ্ছেন। লোকলজ্জা আর সচেতনতার অভাবে অনেকেই এই ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকার যন্ত্রণাকেই নিয়তি বলে মেনে নেন।

মূলত ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ শিরোনামের এই মানবিক প্রতিবেদনটি আমাদের গ্রামীণ জনস্বাস্থ্যের এক অন্ধকার দিক এবং তা থেকে উত্তরণের এক আশাজাগানিয়া গল্প তুলে ধরে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সফল অপারেশনের ফলে দীর্ঘ ২৫ বছর পর মর্যাদার সাথে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন আক্রান্ত দুই বোন।

প্রসবের সময় সঠিক সময়ে সিজারিয়ান বা চিকিৎসাসেবা না মেলায় নারীদের জন্মপথে যে ছিদ্র তৈরি হয়, তার ফলেই এই ফিস্টুলা রোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ করা ৫৫ বছর বয়সী জামেনা এবং ৪৫ বছরের জামিলা দুজনেই সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে এই মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। অনবরত অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব ঝরা ও দুর্গন্ধের কারণে নিজের নাতনি পর্যন্ত জামিলার কাছে আসত না এবং জামেনা তার গৃহকর্মীর চাকরি হারানোর ভয়ে এই রোগটি বহু বছর গোপন রেখেছিলেন।

কানাডা সরকারের অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএর মাঠপর্যায়ের মিডওয়াইফ বা ধাত্রীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শেরপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের এখন সচেতন করা হচ্ছে। বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসায় নারীদের নতুন জীবন লাভ করার এই ঘটনাটি দেখে এলাকার অন্য নারীরাও এখন লোকাল কমিউনিটি ক্লিনিকে আসতে শুরু করেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, হাসপাতালে সন্তান প্রসবের চেয়ে বাড়িতে প্রসব করানো সস্তা— এমন প্রাচীন ও ক্ষতিকারক সামাজিক ধারণা বা কুসংস্কার এখন সরকারি ও বেসরকারি নানামুখী প্রচারণার মাধ্যমে দ্রুত বদলে যাচ্ছে।