হাম সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদের ছুটি বাতিল
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / 35
দেশজুড়ে শিশুদের মাঝে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রোগে আক্রান্তদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আসন্ন ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এই বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আক্রান্ত শিশুরা যেসব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলেই নিয়োজিত থাকবেন।
দেশব্যাপী সংক্রামক ব্যাধি হামের মারাত্মক প্রকোপের কারণে সৃষ্ট জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরণের চিকিৎসা সংকটে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মূলত হাম সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদের ছুটি বাতিল শিরোনামের এই সরকারি নির্দেশনাটি দেশের সকল সরকারি ও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে জানান যে, এই মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আক্রান্ত কোমলমতি শিশুদের ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বর্তমানে হাম সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদের ছুটি বাতিল হওয়ার কারণে উৎসবের দিনগুলোতেও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের রোস্টার অনুযায়ী ডাক্তারদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সংকটকালীন সময়ে কোনো হাসপাতালেই দায়িত্বে অবহেলা বা ছুটি কাটানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও দেশের সকল প্রান্তের চিকিৎসাধীন রোগীরা যেন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পর্যাপ্ত সেবা পান, তা তদারকি করতে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে হাম সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদের ছুটি বাতিল করার পাশাপাশি দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, এই ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ত্যাগ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন সাধারণ মানুষের মনে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে।




































