ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘দোয়া কইরো মা’, আর ফেরা হলো না সেনাসদস্য তিতাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 22

‘দোয়া কইরো মা’, আর ফেরা হলো না সেনাসদস্য তিতাসের

‘বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কথাগুলো বলেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। কিন্তু সেই অভিযানই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। পরদিন বৃহস্পতিবার টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা রেখা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। আর ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আফজাল শেখ। পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়ি।

শুক্রবার সকালে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ পরিবেশ। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিতাস। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিতাস। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান ছিল না। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

স্বামীকে হারিয়ে বারবার বিলাপ করছেন সুমাইয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছেন, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না! আল্লাহ, আমি এখন কী করব!’

মা রেখা বেগম জানান, বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় তার। তখন তিতাস বলেছিলেন, পরদিন বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাবেন, তাই মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। ছেলের সেই কথাই যে শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিতাস। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার জানিয়েছে, তিতাসের মরদেহ বর্তমানে রামু সিএমএইচে রয়েছে। মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন তার ছোট ভাই ও সেনাসদস্য আকরাম হোসেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে শুক্রবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। এরপর বিকেল ৪টার মধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দাফন করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘দোয়া কইরো মা’, আর ফেরা হলো না সেনাসদস্য তিতাসের

সর্বশেষ আপডেট ০২:০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

‘বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কথাগুলো বলেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। কিন্তু সেই অভিযানই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। পরদিন বৃহস্পতিবার টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা রেখা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। আর ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আফজাল শেখ। পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়ি।

শুক্রবার সকালে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ পরিবেশ। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিতাস। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিতাস। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান ছিল না। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

স্বামীকে হারিয়ে বারবার বিলাপ করছেন সুমাইয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছেন, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না! আল্লাহ, আমি এখন কী করব!’

মা রেখা বেগম জানান, বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় তার। তখন তিতাস বলেছিলেন, পরদিন বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাবেন, তাই মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। ছেলের সেই কথাই যে শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিতাস। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার জানিয়েছে, তিতাসের মরদেহ বর্তমানে রামু সিএমএইচে রয়েছে। মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন তার ছোট ভাই ও সেনাসদস্য আকরাম হোসেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে শুক্রবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। এরপর বিকেল ৪টার মধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দাফন করা হবে।