ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী?’ এসপিকে সন্ত্রাসী রায়হান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 141

দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী?’ এসপিকে সন্ত্রাসী রায়হান

পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী রায়হান আলম এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, “দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী, মাসুদ স্যার?”

রোববার (২ আগস্ট) দেওয়া ওই পোস্টটি সোমবার প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশ বলছে, পলাতক অবস্থায় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, সম্প্রতি নোয়াখালীতে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার পর এসপি মাসুদ আলম যে মন্তব্য করেছিলেন, তারই জবাব হিসেবে রায়হান এই পোস্ট দিয়েছেন।

কয়েকদিন আগে নোয়াখালীতে পুলিশের অভিযানের সময় একটি ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান রায়হান। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, রায়হান কোনোভাবে পালিয়ে গেলেও “জাহান্নাম না দেখলেও দোজখ দেখে ফেলেছে।”

এর জবাবে ফেসবুকে রায়হান প্রশ্ন তোলেন, “দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী, মাসুদ স্যার?” একই পোস্টে তিনি নোয়াখালীর কিছু মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, তারা তাকে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে ভালো পথে ফেরার ইঙ্গিতও দেন।

এ বিষয়ে এসপি মাসুদ আলম বলেন, রায়হানকে ধরতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানের সময় কেউ তাকে আশ্রয় বা পালাতে সহযোগিতা করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান চট্টগ্রামের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর নেতৃত্বাধীন চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও রায়হানের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য, ওই হামলার আগে ভুক্তভোগীকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকিমূলক বার্তাও পাঠানো হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলাকারীদের হাতে পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগানের মতো অস্ত্র দেখা গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও রায়হানসহ কয়েকজন অস্ত্রধারী এখনো পলাতক।

সম্প্রতি আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর চট্টগ্রামের অপরাধচক্র নিয়ে নতুন করে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, শুধু অপরাধীদের নয়, তাদের সহযোগী, অর্থের জোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী ও আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পলাতক আসামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলে তার অবস্থান, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে রায়হানের অনলাইন কার্যক্রমও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী?’ এসপিকে সন্ত্রাসী রায়হান

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী রায়হান আলম এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, “দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী, মাসুদ স্যার?”

রোববার (২ আগস্ট) দেওয়া ওই পোস্টটি সোমবার প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশ বলছে, পলাতক অবস্থায় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, সম্প্রতি নোয়াখালীতে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার পর এসপি মাসুদ আলম যে মন্তব্য করেছিলেন, তারই জবাব হিসেবে রায়হান এই পোস্ট দিয়েছেন।

কয়েকদিন আগে নোয়াখালীতে পুলিশের অভিযানের সময় একটি ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান রায়হান। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, রায়হান কোনোভাবে পালিয়ে গেলেও “জাহান্নাম না দেখলেও দোজখ দেখে ফেলেছে।”

এর জবাবে ফেসবুকে রায়হান প্রশ্ন তোলেন, “দোজখ আর জাহান্নামে তফাৎ কী, মাসুদ স্যার?” একই পোস্টে তিনি নোয়াখালীর কিছু মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, তারা তাকে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে ভালো পথে ফেরার ইঙ্গিতও দেন।

এ বিষয়ে এসপি মাসুদ আলম বলেন, রায়হানকে ধরতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানের সময় কেউ তাকে আশ্রয় বা পালাতে সহযোগিতা করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান চট্টগ্রামের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর নেতৃত্বাধীন চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও রায়হানের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য, ওই হামলার আগে ভুক্তভোগীকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকিমূলক বার্তাও পাঠানো হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলাকারীদের হাতে পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগানের মতো অস্ত্র দেখা গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও রায়হানসহ কয়েকজন অস্ত্রধারী এখনো পলাতক।

সম্প্রতি আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর চট্টগ্রামের অপরাধচক্র নিয়ে নতুন করে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, শুধু অপরাধীদের নয়, তাদের সহযোগী, অর্থের জোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী ও আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পলাতক আসামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলে তার অবস্থান, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে রায়হানের অনলাইন কার্যক্রমও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।