ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 45

তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিকদের জন্য ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) এ কে এম ফজলুল হক।

তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর সংশোধিত বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসা ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্‌প) আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়াসার সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্‌পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে অনেক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবলিক পরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন।

জেবা আফরোজা আরও বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তামাকজনিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকা ওয়াসার তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাই মিল্টন। তিনি বলেন, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ডর্‌পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সভায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ডর্‌পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিকদের জন্য ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) এ কে এম ফজলুল হক।

তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর সংশোধিত বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসা ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্‌প) আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়াসার সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্‌পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে অনেক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবলিক পরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন।

জেবা আফরোজা আরও বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তামাকজনিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকা ওয়াসার তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাই মিল্টন। তিনি বলেন, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ডর্‌পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সভায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ডর্‌পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।