ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 180
অক্টোবর মাস ছিল ডেঙ্গু সংক্রমণের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়গুলোর একটি। শুধুমাত্র এই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার রোগী, আর প্রাণ হারিয়েছেন ৮০ জন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এ বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর—দুই মাস জুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর মহাখালীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হাসপাতালে অক্টোবরের শেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৪৯ জন রোগী, যার মধ্যে ১২৮ জনই ডেঙ্গু আক্রান্ত—এটি চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। বর্তমানে এই হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭৯ জন রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা ও ডেমরা এলাকা থেকেও রোগী আসছে।
রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, তাদের এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিয়মিত মশা নিধন বা ওষুধ স্প্রে না হওয়ায় মশার সংখ্যা বেড়ে গেছে, যার ফলে আক্রান্তের হারও বাড়ছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময় পর্যন্ত (৩১ অক্টোবর) দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ৬১ হাজার জনের। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ হাজারে। আগস্টের তুলনায় অক্টোবর মাসে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, “ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি আলাদা স্ট্রেন আছে। ফলে একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। নতুন স্ট্রেনে আক্রান্ত হলে জটিলতা বেড়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় রোগীরা জ্বর কমে যাওয়ার পর ভাবেন তারা সুস্থ হয়ে গেছেন, কিন্তু ঠিক সেই সময়েই শরীরের ভেতরে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।”
ডেঙ্গু চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা আগের চেয়ে উন্নত হলেও মৃত্যুর হার কমেনি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭৮ জন রোগী, যার মধ্যে গত তিন মাসেই প্রায় দুই শতাধিক মৃত্যু ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, ডেঙ্গু শনাক্তে দেরি না করার জন্য সরকার পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করেছে। তিনি বলেন, “মাত্র ৫০ টাকার পরীক্ষার খরচ যেন কাউকে নিরুৎসাহিত না করে, সে কারণেই এটি বিনামূল্যে করা হয়েছে। জনগণের পাশে থাকতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর মশা নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট ছিল না। ফলে এডিস মশার প্রজনন বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, “এখনও পরিবেশ এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য অনুকূল রয়েছে। সাধারণত নভেম্বরের পর সংক্রমণ কমে আসে, কিন্তু এ বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বজায় থাকবে।”
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, এবং নিয়মিত মশা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।





































