টাকার পাহাড়, অথচ খরচের পথ বন্ধ—ইয়েমেনের নতুন বাস্তবতা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
মুদ্রার দর কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ইয়েমেনে এখন দেখা দিয়েছে ভিন্ন ধরনের সংকট—নগদ টাকার মারাত্মক ঘাটতি। ডলার ও রিয়াল থাকলেও তা ভাঙানো বা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যন্ত প্রায় থমকে গেছে পরিস্থিতি।
ইয়েমেনি রিয়ালের দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সরকার যেসব কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার ফল হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রার দর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক মাস আগে যেখানে এক মার্কিন ডলারের দাম প্রায় ২ হাজার ৯০০ রিয়ালে পৌঁছেছিল, তা নেমে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রিয়ালের আশপাশে।
কাগজে-কলমে এটি অগ্রগতি মনে হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনিয়মিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয় এবং রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে কঠোর নজরদারি চালু করে।
আমদানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাও একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনা হয়। এই নিয়ন্ত্রণ বাজারে স্থিতি ফেরালেও নগদের প্রবাহ হঠাৎ করেই সংকুচিত হয়ে পড়ে।
ফলে এডেন, তাইজ ও মুকাল্লার মতো শহরে নতুন এক সমস্যা দেখা দেয়—ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোতে স্থানীয় মুদ্রার ঘাটতি। অনেক জায়গায় ডলার বা সৌদি রিয়াল থাকলেও তা ভাঙানো যাচ্ছে না, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে, যেমন দিনে মাত্র ৫০ রিয়াল পর্যন্ত লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ছোট-বড় ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কালোবাজারে মুদ্রা বিনিময় বাড়ছে, যেখানে দর অফিসিয়াল রেটের চেয়ে অনেক বেশি ওঠানামা করছে। স্বাভাবিক লেনদেনের বাইরে গিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে অনানুষ্ঠানিক পথে টাকা ভাঙাতে চেষ্টা করছেন।
মুকাল্লার এক দোকানদার মোহাম্মদ ওমরের অভিজ্ঞতা সেই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। তিনি জানান, কয়েকশ সৌদি রিয়াল নিয়ে একাধিক এক্সচেঞ্জে ঘুরেও প্রয়োজনীয় অর্থ ভাঙাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দোকান বন্ধ করে দিতে হয় তাকে। তার ভাষায়, সীমিত লেনদেনের নিয়ম বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ইয়েমেনের অর্থনীতিকে আগেই দুর্বল করে দিয়েছে। সরকারি ও হুথি নিয়ন্ত্রিত—উভয় পক্ষই অর্থ সংকটে ভুগছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেতন, সেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে। অনেক সরকারি কর্মচারীকে ছোট নোটে বেতন দেওয়া হচ্ছে, যা বহন করাই এখন এক ধরনের ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর অবস্থাও বিশেষভাবে নাজুক। সৌদি আরব থেকে পাঠানো অর্থ ভাঙাতে না পেরে অনেকেই দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন, আর মাঝেমধ্যে বাধ্য হচ্ছেন তুলনামূলক কম দরে টাকা ছাড়তে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। কিছু হাসপাতাল বিদেশি মুদ্রায় পেমেন্ট নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, ফলে রোগী ও তাদের পরিবারকে চিকিৎসার আগেই নগদ সংকট সামলাতে হচ্ছে।
তবে একই সময়ে আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছে, কারণ নিয়ন্ত্রিত বাজারে তারা কম দামে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের ব্যয় কিছুটা কমলেও পুরো অর্থনীতির ভারসাম্য এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে গেছে।































