গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা আপসযোগ্য নয়: পিপি
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 10
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা আপসের মাধ্যমে শেষ হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা আপসযোগ্য নয়। বাদী আপস করলেও এর ভিত্তিতে মামলা শেষ হবে না।
এর আগে মামলার বাদী ও নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আসামিদের সঙ্গে আপস করেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে তিনি আপসনামা দাখিল করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নারী বিবেচনায় জামিন দেন। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা আইনে আপসযোগ্য নয়। তাই বাদী আপস করলেই মামলা শেষ হবে না। রাষ্ট্রপক্ষ গাজী নজরুলের জামিনের বিরোধিতা করেছে। মাকছুদাকে নারী বিবেচনায় আদালত জামিন দিয়েছেন এবং গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।
বাদীর আপসের বিষয়ে পিপি বলেন, তাকে চাপ প্রয়োগ করে আপস করানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে দেখবেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, বাদী স্বেচ্ছায় আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন এবং দুই আসামির জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুলের জামিনের জন্য তারা আবার আবেদন করবেন অথবা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
আপসনামায় এস এম মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাৎক্ষণিক সন্দেহের ভিত্তিতে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও আরেকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। আসামিরা জামিন পেলে বাদী বা তার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপসনামায় আরও বলা হয়, উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে এবং বিচারাধীন মামলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। নথিটি ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়েছে।
এর আগে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় রাত কাটাতে হতো।
পুলিশ আদালতকে আরও জানিয়েছে, তদন্তে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছিল।
পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদা এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন।





























