ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশু সাইয়েদা নিহত, বড় বোন, মা-বাবা চিকিৎসাধীন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • / 217

নিহত সাইয়েদা। ফাইল ছবি

ঈদকে সামনে রেখে ফিরে আসার আনন্দ যেন হঠাৎ করে শোকে বদলে গেলো। ৭ বছরের শিশু সাইয়েদা কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে।

তার পরিবার—মা, বাবা ও বড় বোন—বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে হতাশা ও কান্নার ছায়া।

শনিবার রাত প্রায় তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজারে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সাইয়েদা সহ অন্তত ১২ জন।

গুরুতর আহত সাইয়েদার মা রাজিয়া বেগম, বাবা হাফেজ সিরাজুল ইসলাম এবং ২২ বছরের বড় বোন আফনান ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি। আফনান আইসিইউতে আছেন।

সাইয়েদার পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নতুন ঘর নির্মাণ করছিল। বাবা হাফেজ সিরাজ উদদৌলা ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব।

দুই বছর আগে বড় ছেলে রোমানকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি; এবার ছোট মেয়ে হারিয়ে পরিবারের দুঃখ আরও দ্বিগুণ।

সাইয়েদার চাচি সাহিনুর সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুই বছর আগে তারা এক সন্তান হারিয়েছিলেন, এখন ছোট মেয়েটাও চলে গেল।

বড় মেয়ে আইসিইউতে, মা-বাবাও মারাত্মক আহত। আমরা শোকে পাথর হয়ে গেছি। বাড়ি ফিরে তারা যখন কবর দেখবে, কী সান্ত্বনা দেব?”

ফুফা আব্দুর রব বলেন, “মেয়েটা প্রতি ঈদে গ্রামে আনন্দ ছড়িয়ে দিত। এবারও তার সেই হাসি থাকবে বলে সবাই ভাবছিল। এক মুহূর্তে সব আনন্দ কেড়ে নিল এই দুর্ঘটনা।”

শোকের এই পরিবার এখনও হাসপাতালে, আর গ্রামের সবাই কেবল প্রার্থনা করছে—আশা করা যায়, আহতরা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং এই মর্মস্পর্শী ক্ষতি যেন কখনও পূরণ হয় না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশু সাইয়েদা নিহত, বড় বোন, মা-বাবা চিকিৎসাধীন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঈদকে সামনে রেখে ফিরে আসার আনন্দ যেন হঠাৎ করে শোকে বদলে গেলো। ৭ বছরের শিশু সাইয়েদা কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে।

তার পরিবার—মা, বাবা ও বড় বোন—বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে হতাশা ও কান্নার ছায়া।

শনিবার রাত প্রায় তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজারে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সাইয়েদা সহ অন্তত ১২ জন।

গুরুতর আহত সাইয়েদার মা রাজিয়া বেগম, বাবা হাফেজ সিরাজুল ইসলাম এবং ২২ বছরের বড় বোন আফনান ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি। আফনান আইসিইউতে আছেন।

সাইয়েদার পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নতুন ঘর নির্মাণ করছিল। বাবা হাফেজ সিরাজ উদদৌলা ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব।

দুই বছর আগে বড় ছেলে রোমানকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি; এবার ছোট মেয়ে হারিয়ে পরিবারের দুঃখ আরও দ্বিগুণ।

সাইয়েদার চাচি সাহিনুর সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুই বছর আগে তারা এক সন্তান হারিয়েছিলেন, এখন ছোট মেয়েটাও চলে গেল।

বড় মেয়ে আইসিইউতে, মা-বাবাও মারাত্মক আহত। আমরা শোকে পাথর হয়ে গেছি। বাড়ি ফিরে তারা যখন কবর দেখবে, কী সান্ত্বনা দেব?”

ফুফা আব্দুর রব বলেন, “মেয়েটা প্রতি ঈদে গ্রামে আনন্দ ছড়িয়ে দিত। এবারও তার সেই হাসি থাকবে বলে সবাই ভাবছিল। এক মুহূর্তে সব আনন্দ কেড়ে নিল এই দুর্ঘটনা।”

শোকের এই পরিবার এখনও হাসপাতালে, আর গ্রামের সবাই কেবল প্রার্থনা করছে—আশা করা যায়, আহতরা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং এই মর্মস্পর্শী ক্ষতি যেন কখনও পূরণ হয় না।