ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কয়রায় চিকিৎসক না পেয়ে দুই মাসের শিশুর মৃত্যু

তারিক লিটু, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 95

কয়রায় চিকিৎসক না পেয়ে দুই মাসের শিশুর মৃত্যু

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসক পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ। সে কয়রা উপজেলার বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সন্তান।

শিশুটির মামা রাকিব হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকিবের ভাষ্য, জরুরি বিভাগ থেকে বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলা হয়। ওষুধ আনার পর শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক এসে দেখবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসক আসেননি। এর কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তমালিকা নামের একজন চিকিৎসককে রোগী দেখতে দেখা যায়। তবে এ সময় অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২৯টি হলেও বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকসংকটের কারণে জরুরি রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও চিকিৎসাসুবিধারও ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, শিশু কিংবা অন্য রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কয়রা উপজেলা সদর থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিতে হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিতি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজীবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কয়রায় চিকিৎসক না পেয়ে দুই মাসের শিশুর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসক পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ। সে কয়রা উপজেলার বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সন্তান।

শিশুটির মামা রাকিব হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকিবের ভাষ্য, জরুরি বিভাগ থেকে বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলা হয়। ওষুধ আনার পর শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক এসে দেখবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসক আসেননি। এর কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তমালিকা নামের একজন চিকিৎসককে রোগী দেখতে দেখা যায়। তবে এ সময় অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২৯টি হলেও বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকসংকটের কারণে জরুরি রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও চিকিৎসাসুবিধারও ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, শিশু কিংবা অন্য রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কয়রা উপজেলা সদর থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিতে হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিতি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজীবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।