অভিযোগ মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের
‘আমাকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে জামায়াত আমির’
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 46
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে থাকা বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম দাবি করেছেন, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁকে এ মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ছরওয়ারে আলমের দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। তবে এসব ডিভাইস থেকে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁর ডিভাইস পরীক্ষা করা হলেও জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস এখনো তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয়নি। এসব ডিভাইস পরীক্ষা করা হলে হ্যাকিংয়ের প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সময়, ব্যবহৃত ডিভাইস এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করা সম্ভব।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে বাদীপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আদালতের মাধ্যমেও এসব ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো তদন্ত সংস্থার হাতে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাজিফুল ইসলাম বাবু জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে বাদীপক্ষের কাছে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিভাইস হস্তান্তরের বিষয়ে ডিবির সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। ডিভাইস দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি পরিষ্কার হলে তদন্তের জন্য সেগুলো দিতে তাঁরা প্রস্তুত।
গত ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত একটি পোস্ট প্রকাশের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছরওয়ারে আলমকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ঢাকার আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে তিনি হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ছরওয়ারে আলমের ভাষ্য, তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ তদন্তের জন্য দিয়েছেন। এসব ডিভাইস পরীক্ষা করেও তাঁর বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁকে এ মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে বলে আবারও দাবি করেন তিনি।





























