ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্স: ট্রাম্পের শান্তি দূত নাকি বলির পাঁঠা?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 106

ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়িত্ব দিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ মার্কিন নেতা ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি বৈঠকে বসছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মিশন ভ্যান্সের ক্যারিয়ারের জন্য এক চরম পরীক্ষা। একদিকে ইরানের কঠোর শর্ত, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘কঠিন’ নির্দেশনা— সব মিলিয়ে এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার জেডি ভ্যান্সের ওপরই চাপতে পারে।

ইসলামাবাদের এই আলোচনা শুধু কূটনৈতিক মিশন নয়, বরং জেডি ভ্যান্সের জন্য এক রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ভ্যান্সকে এমন এক সংঘাত মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তিনি নিজে কখনোই চাননি। পরিস্থিতি এমন যে, আলোচনা সফল করতে ইরানকে বড় ছাড় দিলে তিনি দলের ভেতরে তোপের মুখে পড়বেন, আবার আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের দায় তার কাঁধেই পড়বে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আলোচনার শুরুতেই দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছেন:

১. লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

২. বিদেশে জব্দ করা ইরানের সকল সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে ‘মার্কেট স্টাইল’ বা বিরামহীন দরদাম বলে অভিহিত করেছেন। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকায় ইরান বর্তমানে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

সফরের আগে ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি ‘সুস্পষ্ট নির্দেশনা’ পেয়েছেন। ট্রাম্পের বার্তা হলো— ইরান সদিচ্ছা দেখালে বন্ধুত্ব, আর টালবাহানা করলে কঠোর অবস্থান। মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধের বিষয়ে ভ্যান্সের দর্শন তার চেয়ে ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে ভ্যান্সকে দুর্বল করতেই কি ট্রাম্প তাকে এই কঠিন মিশনে পাঠিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও সুর মিলছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যেখানে যুদ্ধের পক্ষে কড়া অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে ভ্যান্সকে পাঠানো হয়েছে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ইরানের নেতৃত্বকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, যা ভ্যান্সের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্স: ট্রাম্পের শান্তি দূত নাকি বলির পাঁঠা?

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়িত্ব দিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ মার্কিন নেতা ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি বৈঠকে বসছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মিশন ভ্যান্সের ক্যারিয়ারের জন্য এক চরম পরীক্ষা। একদিকে ইরানের কঠোর শর্ত, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘কঠিন’ নির্দেশনা— সব মিলিয়ে এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার জেডি ভ্যান্সের ওপরই চাপতে পারে।

ইসলামাবাদের এই আলোচনা শুধু কূটনৈতিক মিশন নয়, বরং জেডি ভ্যান্সের জন্য এক রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ভ্যান্সকে এমন এক সংঘাত মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তিনি নিজে কখনোই চাননি। পরিস্থিতি এমন যে, আলোচনা সফল করতে ইরানকে বড় ছাড় দিলে তিনি দলের ভেতরে তোপের মুখে পড়বেন, আবার আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের দায় তার কাঁধেই পড়বে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আলোচনার শুরুতেই দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছেন:

১. লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

২. বিদেশে জব্দ করা ইরানের সকল সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে ‘মার্কেট স্টাইল’ বা বিরামহীন দরদাম বলে অভিহিত করেছেন। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকায় ইরান বর্তমানে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

সফরের আগে ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি ‘সুস্পষ্ট নির্দেশনা’ পেয়েছেন। ট্রাম্পের বার্তা হলো— ইরান সদিচ্ছা দেখালে বন্ধুত্ব, আর টালবাহানা করলে কঠোর অবস্থান। মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধের বিষয়ে ভ্যান্সের দর্শন তার চেয়ে ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে ভ্যান্সকে দুর্বল করতেই কি ট্রাম্প তাকে এই কঠিন মিশনে পাঠিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও সুর মিলছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যেখানে যুদ্ধের পক্ষে কড়া অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে ভ্যান্সকে পাঠানো হয়েছে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ইরানের নেতৃত্বকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, যা ভ্যান্সের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।