অশ্রুভেজা বিদায়ে ববি উপাচার্য
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / 25
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর ব্যক্তিগত স্মৃতির ভিড়ে তাঁর বিদায় মুহূর্তটি রূপ নেয় এক নীরব, ভারী অনুভূতির দৃশ্যে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নীরব, আবার অদ্ভুতভাবে ভারীও। চারপাশে শিক্ষার্থীদের ভিড়, চোখে পানি—আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। আনুষ্ঠানিক কোনো আড়ম্বর নয়, ছিল না কোনো বিশেষ আয়োজনের চাকচিক্য; বরং পুরো বিদায়পর্বটি ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত এক অনুভূতির ভেতরে ঢুকে পড়ে।
এক পর্যায়ে দেখা যায়, তিনি নিজেও আর আবেগ চেপে রাখতে পারছেন না। ক্যাম্পাসের চিরচেনা পরিবেশের সঙ্গে শেষবারের মতো বিদায় নিতে গিয়ে তিনি সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান খুব সাধারণ এক ভঙ্গিতে—নিজের মোটরসাইকেলে। সেই দৃশ্য অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অপ্রত্যাশিত হলেও, পরে সেটিই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরপর থেকেই শুরু হয় নানা স্মৃতিচারণ। কেউ তাঁর সহজ আচরণের কথা বলেন, কেউ আবার প্রশাসনিক কঠোরতার বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত আন্তরিকতাকে সামনে আনেন।
এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, উপাচার্য ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ক্ষমতার ভারে নিজেকে আলাদা করে রাখেননি। তবে তাঁর এই অতিরিক্ত সরলতা কখনো কখনো প্রশাসনিক জটিল পরিস্থিতিতে তাঁকে দুর্বল অবস্থায় ফেলেছিল বলেও অনেকে মনে করেন।
অন্য একজন শিক্ষার্থী তাঁর একাকী বিদায়ের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, শুরুটাও একা ছিল, শেষটাও যেন তেমনই হয়ে গেল। তবে মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন খাঁটি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কটা বন্ধুর মতোই গড়ে তুলেছিলেন।
সবচেয়ে আলোচিত স্মৃতিগুলোর একটি উঠে আসে এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়। হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ভিসি শুধু বিষয়টি শুনেই থেমে যাননি, বরং নিজের বিড়ালছানাকে বড় হলে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। পরবর্তীতে সেই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার জন্য তিনি উদ্যোগ নেন বলেও জানা যায়। এই ছোট ঘটনাটিই অনেকের কাছে তাঁর মানবিক দিকের প্রতীক হয়ে ওঠে।
ক্যাম্পাস উন্নয়ন বা প্রশাসনিক সাফল্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল—একজন কাছের মানুষ, যিনি দূরত্ব তৈরি করেননি।
বিদায়ের সেই মুহূর্ত শেষে ক্যাম্পাসে থেকে যায় কিছু থেমে থাকা কথা, কিছু অসমাপ্ত অনুভূতি। প্রশাসনিক চেয়ারের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে তিনি যে শিক্ষার্থীদের মনে আলাদা একটি জায়গা করে নিয়েছিলেন, সেই চিত্রই যেন শেষ দিনে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।



































