ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন

৬ মাসে রাজনৈতিক মামলায় ১৮৭ শিশু গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 12

৬ মাসে রাজনৈতিক মামলায় ১৮৭ শিশু গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশুদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে ছয় মাসের একটি মনিটরিং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)। সংগঠনটির দাবি, গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে অন্তত ১৮৭ শিশুকে যথেচ্ছ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৫ অক্টোবর প্যারিসের সদর দপ্তর থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে জেএমবিএফ। সংগঠনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেস রিলিজ আকারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার উপকমিটি, ইউরোপীয় কমিশন, বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতে প্রতিবেদনটি ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

জেএমবিএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে মে মাসে সবচেয়ে বেশি শিশু গ্রেপ্তার হয়েছে। ওই মাসে ৬০ শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা মোট সংখ্যার ৩২ দশমিক ০৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ৪২ জন, আগস্টে ৩৮ জন, জুনে ৩২ জন, এপ্রিলে ৯ জন এবং জুলাইয়ে ৬ জন শিশুকে গ্রেপ্তারের তথ্য নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ১২৭ শিশুর ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেছে জেএমবিএফ। এ ছাড়া দুজনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে, একজনকে দ্রুত বিচার আইনে, পাঁচজনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং একজনকে সাইবার-সম্পর্কিত আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৫১ শিশুর ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারেনি সংগঠনটি।

জেএমবিএফের নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭৪ শিশুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মিছিল বা ফ্ল্যাশ মার্চে অংশ নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। আরও ৫৭ শিশুকে মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবি করেছে সংগঠনটি।

গ্রেপ্তারের পর অন্তত ৬৯ শিশুকে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ১১১ শিশুকে গ্রেপ্তারের পর কোথায় রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি জেএমবিএফ।

প্রতিবেদনে বিএনপি সরকারের অধীনে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ জেএমবিএফের নিজস্ব মনিটরিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জেএমবিএফ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ ও রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে শিশুদের গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি আটক শিশুদের মামলাগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে তাদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ কঠোর বিশেষ আইন প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেএমবিএফের সুপারিশ, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বয়স, সর্বোত্তম স্বার্থ এবং শিশু-সংবেদনশীল বিচারপ্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের আটককে কেবল সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন

৬ মাসে রাজনৈতিক মামলায় ১৮৭ শিশু গ্রেপ্তার

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশুদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে ছয় মাসের একটি মনিটরিং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)। সংগঠনটির দাবি, গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে অন্তত ১৮৭ শিশুকে যথেচ্ছ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৫ অক্টোবর প্যারিসের সদর দপ্তর থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে জেএমবিএফ। সংগঠনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেস রিলিজ আকারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার উপকমিটি, ইউরোপীয় কমিশন, বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতে প্রতিবেদনটি ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

জেএমবিএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে মে মাসে সবচেয়ে বেশি শিশু গ্রেপ্তার হয়েছে। ওই মাসে ৬০ শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা মোট সংখ্যার ৩২ দশমিক ০৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ৪২ জন, আগস্টে ৩৮ জন, জুনে ৩২ জন, এপ্রিলে ৯ জন এবং জুলাইয়ে ৬ জন শিশুকে গ্রেপ্তারের তথ্য নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ১২৭ শিশুর ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেছে জেএমবিএফ। এ ছাড়া দুজনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে, একজনকে দ্রুত বিচার আইনে, পাঁচজনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং একজনকে সাইবার-সম্পর্কিত আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৫১ শিশুর ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারেনি সংগঠনটি।

জেএমবিএফের নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭৪ শিশুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মিছিল বা ফ্ল্যাশ মার্চে অংশ নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। আরও ৫৭ শিশুকে মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবি করেছে সংগঠনটি।

গ্রেপ্তারের পর অন্তত ৬৯ শিশুকে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ১১১ শিশুকে গ্রেপ্তারের পর কোথায় রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি জেএমবিএফ।

প্রতিবেদনে বিএনপি সরকারের অধীনে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ জেএমবিএফের নিজস্ব মনিটরিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জেএমবিএফ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ ও রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে শিশুদের গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি আটক শিশুদের মামলাগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে তাদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ কঠোর বিশেষ আইন প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেএমবিএফের সুপারিশ, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বয়স, সর্বোত্তম স্বার্থ এবং শিশু-সংবেদনশীল বিচারপ্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের আটককে কেবল সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।