ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ জুলাইকে ‘ফ্যাসিস্ট মুক্ত দিবস’ ঘোষণার দাবিতে ববিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

ববি প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 13

‎১৮ই জুলাইয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় স্বৈরাচার হাসিনার ফ্যাসিস্ট বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। জুলাই আন্দোলনে এই দিনে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এবার প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সিন্ডিকেটে স্বীকৃতির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

‎বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই) দুপুর ১২:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

‎ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা ববি শাখা ছাত্রদল উপাচার্য মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম (সিন্ডিকেট) এর নিকট একটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করছি।

‎২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্রসমাজ বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ডাক দেয়। এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগামী ভূমিকায় স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

‎স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডার বাহিনী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়কে ইতিহাসের অন্যতম বর্বর ও নৃশংস হামলা চালায়। সেই রক্তঝরা দিনে বুক ফুলিয়ে বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল আমাদের সহপাঠী ও ভাইয়েরা।

শিক্ষার্থীদের অদম্য সাহসিকতা এবং প্রতিরোধের মুখে সেদিন স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। ১৮ জুলাইয়ের সেই সাহসী প্রতিরোধই বরিশালে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধে আমাদের বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন, যার ক্ষত অনেকেই আজীবন বহন করবেন। এই আত্মত্যাগ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং বাংলাদেশের গৌরবময় গন-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

‎আমাদের দাবি: ‎ শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীবৃন্দের এই অসীম সাহসিকতা এবং ত্যাগের স্মৃতিকে ক্যাম্পাসের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে ১৮ জুলাই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত দিবস’ হিসেবে সিন্ডিকেট স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। আমরা আশা করি, আপনি শিক্ষার্থীদের এই আবেগময় ও যৌক্তিক দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করবেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১৮ জুলাইকে ‘ফ্যাসিস্ট মুক্ত দিবস’ ঘোষণার দাবিতে ববিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

‎১৮ই জুলাইয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় স্বৈরাচার হাসিনার ফ্যাসিস্ট বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। জুলাই আন্দোলনে এই দিনে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এবার প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সিন্ডিকেটে স্বীকৃতির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

‎বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই) দুপুর ১২:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

‎ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা ববি শাখা ছাত্রদল উপাচার্য মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম (সিন্ডিকেট) এর নিকট একটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করছি।

‎২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্রসমাজ বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ডাক দেয়। এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগামী ভূমিকায় স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

‎স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডার বাহিনী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়কে ইতিহাসের অন্যতম বর্বর ও নৃশংস হামলা চালায়। সেই রক্তঝরা দিনে বুক ফুলিয়ে বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল আমাদের সহপাঠী ও ভাইয়েরা।

শিক্ষার্থীদের অদম্য সাহসিকতা এবং প্রতিরোধের মুখে সেদিন স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। ১৮ জুলাইয়ের সেই সাহসী প্রতিরোধই বরিশালে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধে আমাদের বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন, যার ক্ষত অনেকেই আজীবন বহন করবেন। এই আত্মত্যাগ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং বাংলাদেশের গৌরবময় গন-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

‎আমাদের দাবি: ‎ শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীবৃন্দের এই অসীম সাহসিকতা এবং ত্যাগের স্মৃতিকে ক্যাম্পাসের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে ১৮ জুলাই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত দিবস’ হিসেবে সিন্ডিকেট স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। আমরা আশা করি, আপনি শিক্ষার্থীদের এই আবেগময় ও যৌক্তিক দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করবেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।