শাপলা ঘটনায় তথ্য আড়ালের অভিযোগ বাবু-রুপার বিরুদ্ধে
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / 11
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সহিংস ঘটনার তথ্য বিকৃত ও মৃত্যুর খবর আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা, যাদের বিরুদ্ধে ঘটনার প্রকৃত চিত্র ধূসর করে দেওয়ার ভূমিকার কথা বলা হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের তথ্য আড়াল করতে একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যেখানে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ভাষায়, তারা ঘটনাটির মূল বাস্তবতা ঢেকে রেখে ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সমীকরণ’ শিরোনামের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়। ওই প্রতিবেদনে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা ছিল যে শাপলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি—যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি প্রসিকিউশনের।
চিফ প্রসিকিউটর আরও প্রশ্ন তোলেন, এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পেছনে উদ্দেশ্য কী ছিল। তাঁর মতে, এটি কেবল সাংবাদিকতা নয়, বরং ঘটনার বর্ণনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু ঘটনাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করার একটি ধারা তৈরি হয়। তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করা হয়।
এর আগে আদালতের নির্দেশে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং মামলার পরবর্তী ধাপে ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ার দাবি রয়েছে, যদিও এ সংখ্যা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
মামলাটি ঘিরে সাবেক মন্ত্রী, নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাসহ একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির নাম আসায় এটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত এখনো চলমান বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।


































