ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেখাপড়া না করায় অনেকে এইচএসসি দিচ্ছে না: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 13

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী অংশ না নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় এবার পরীক্ষায় বসেনি। তবে ঝরে পড়ার হারকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অংশ না নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, লেখাপড়া না করায় অনেক শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় বসেনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেসকোর একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির পর এইচএসসি কিংবা দাখিলের পর আলিম পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা আগে থেকেই ছিল। মেয়েদের বিয়ে, ছেলেদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়াসহ নানা কারণে প্রতিবছর একটি স্বাভাবিক হার দেখা যায়। তবে এবার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে যে পরীক্ষা দিতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। অনেকেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে না পারায় ফরম পূরণ করেনি এবং পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের মনিটরিং, সিলেবাস ও কারিকুলাম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঝরে পড়ার হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও নিবন্ধন করা ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ নিয়মিত শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অর্থাৎ ঝরে পড়ার হার ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়ার হার ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এদিকে শিক্ষাবিদরা এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ঝরে পড়া নতুন বিষয় নয়, তবে এবার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধরে রাখতে সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লেখাপড়া না করায় অনেকে এইচএসসি দিচ্ছে না: শিক্ষামন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী অংশ না নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় এবার পরীক্ষায় বসেনি। তবে ঝরে পড়ার হারকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অংশ না নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, লেখাপড়া না করায় অনেক শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় বসেনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেসকোর একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির পর এইচএসসি কিংবা দাখিলের পর আলিম পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা আগে থেকেই ছিল। মেয়েদের বিয়ে, ছেলেদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়াসহ নানা কারণে প্রতিবছর একটি স্বাভাবিক হার দেখা যায়। তবে এবার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে যে পরীক্ষা দিতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। অনেকেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে না পারায় ফরম পূরণ করেনি এবং পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের মনিটরিং, সিলেবাস ও কারিকুলাম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঝরে পড়ার হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও নিবন্ধন করা ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ নিয়মিত শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অর্থাৎ ঝরে পড়ার হার ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়ার হার ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এদিকে শিক্ষাবিদরা এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ঝরে পড়া নতুন বিষয় নয়, তবে এবার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধরে রাখতে সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।