যুবলীগের কমিটি ভাঙতে মৃণাল-যুথীর কোটি টাকার বাণিজ্য
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 1602
মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন এবং তারপর সেগুলো ভেঙে দেয়ার মাধ্যমে আবারও কালো থাবা বসিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। তিনি এবং আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস মিলে কোটি টাকার লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান রাজীব এবং সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান ৫ টি উপজেলায় যুবলীগের কমিটি গঠন করেন। এরপর মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস সেই কমিটিগুলো ভেঙে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন।
এই কাজের মৃণাল কান্তি দাস বেছে নেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথীকে। তাকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েই নতুন গঠিত কমিটিগুলো বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এক্ষেত্রে শুধু ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়নি বলেও জানিয়েছেন ঢাকা প্রদানকারী মুন্সীগঞ্জের একাধিক নেতা। মোট ১ কোটি ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তারা। তার মধ্যে মৃণাল কান্তি দাস নিজেই ৫০ লাখ রেখে দিয়েছেন। তার ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল-এমনটাই অভিযোগ করেছেন তারা।
বাংলা অ্যাফেয়ার্সের সাথে আলাপকালে টাকা দেয়া এক নেতা বলেন, লৌহজং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশীদ শিকদার এবং লৌহজং যুবলীগের সহ সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর খোকা মৃধা মিলে ২০ লাখ, টংগীবাড়ী উপজেলার কামারখারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খুকু (লুৎফর হালদার ওরফে খুকু) ১০ লাখ টাকা, তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষেও কাজ করেছেন; পাচগাও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জাফর আহমেদ ৫ লাখ, সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটু এবং হাজী আব্দুল করিম ওরফে ফল করিম চেয়ারম্যান মিলে ২০ লাখ , শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজাকার পুত্র মশিউর রহমান মামুন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপল মিলে ২০ লাখ এবং মুন্সিগঞ্জ সদর টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসী জালাল উদ্দীন রুমি রাজন ২০ লাখ ও ডা: মাজারুল হক তপন ১০ লাখ টাকার যোগান দিয়েছেন।
এই টাকার ভাগ শেখ ফজলে শাসম পরশের স্ত্রী আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথীর কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলেই আদায় করেছেন মৃণাল কান্তি দাস। এমনটাই অভিযোগ করেছেন জেলা যুবলীগের একাধিক নেতা।
এ বিষয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী নাহিদ সুলতানা যুথীকে হোয়াটসআ্যাপে কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি এ বিষয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি প্রতিউত্তর করেননি। মৃণাল কান্তি দাসও ফোন ধরেননি।
তবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। বিষয়টি চেয়ারম্যান জানেন।
এদিকে, মৃণাল কান্তি দাস এবং নাহিদ সুলতানা যুথীর কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ যুবলীগের সব কমিটির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই মুন্সীগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি সভাপতি আখতারুজ্জামান রাজীব এবং সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান মুন্সীগঞ্জ সদর, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় যুবলীগের কমিটি গঠন করেন। যেখানে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের পদায়নও করা হয়।
কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ -৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের নিজের পকেটম্যানদের কমিটিতে না রাখায় তিনি কমিটিগুলো বিলুপ্ত করিয়েছেন বলে দাবি করেছেন অনেকেই।






























