ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 19

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব রাজনীতির পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে সাধুবাদ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক উইং থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে— বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে বরাবরই যেকোনো আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সংলাপ, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে এসেছে। এই বিশ্বজনীন শান্তির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এবং এই আলোচনার সাথে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের গঠনমূলক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী কূটনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছে বাংলাদেশ। একই সাথে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে আশা প্রকাশ করে যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি উভয় দেশের সদিচ্ছা ও পারস্পরিক অটুট আস্থার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব শান্তির ভিত্তি আরও বেশি সুদৃঢ় হবে।

মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো একটি কৌশলগত অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখা শুধু ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যই জরুরি নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক শান্তি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্যও এটি অত্যন্ত অপরিহার্য। এই কারণে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক পক্ষকে এই ইতিবাচক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সাথে দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য যে সব অবশিষ্ট অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, সেগুলোও যেন আগামী দিনে পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের জন্য গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখা হয়, সেই তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, এই যুগান্তকারী দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুলাংশে প্রশমনে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) স্থায়িত্ব রক্ষা এবং বিশ্ব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বিশেষভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব রাজনীতির পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে সাধুবাদ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক উইং থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে— বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে বরাবরই যেকোনো আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সংলাপ, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে এসেছে। এই বিশ্বজনীন শান্তির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এবং এই আলোচনার সাথে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের গঠনমূলক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী কূটনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছে বাংলাদেশ। একই সাথে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে আশা প্রকাশ করে যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি উভয় দেশের সদিচ্ছা ও পারস্পরিক অটুট আস্থার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব শান্তির ভিত্তি আরও বেশি সুদৃঢ় হবে।

মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো একটি কৌশলগত অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখা শুধু ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যই জরুরি নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক শান্তি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্যও এটি অত্যন্ত অপরিহার্য। এই কারণে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক পক্ষকে এই ইতিবাচক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সাথে দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য যে সব অবশিষ্ট অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, সেগুলোও যেন আগামী দিনে পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের জন্য গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখা হয়, সেই তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, এই যুগান্তকারী দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুলাংশে প্রশমনে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) স্থায়িত্ব রক্ষা এবং বিশ্ব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বিশেষভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।