ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মস্কোয় আজ খলিলুর-ল্যাভরভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 23

মস্কোয় খলিলুর-ল্যাভরভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে গতকাল রোববার (৭ জুন) রাশিয়া পৌঁছেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে ৭ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত এই সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনসহ সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিশদ আলোচনা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ এই মুহূর্তে ঢাকা-মস্কো সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় অর্থনীতি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা রয়েছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত কারণে দুই দেশের লেনদেন ও বাণিজ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ বা বাধা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার কৌশল খোঁজা আজকের বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গেছে।

মস্কো সফরকালে ড. খলিলুর রহমান কেবল রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেই বৈঠক করছেন না, বরং রুশ সরকারের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচিতে রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলি এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রসাটম স্টেট করপোরেশন’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিশেষ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, জাতিসংঘের বহুমাত্রিক কার্যক্রমে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে দুই দেশই বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের এপ্রিলে দ্বিপক্ষীয় সফরে সর্বশেষ রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এরপর গত ২০২৩ সালে একটি আনুষ্ঠানিক ঢাকা সফরে এসেছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মস্কো সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মস্কোয় আজ খলিলুর-ল্যাভরভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে গতকাল রোববার (৭ জুন) রাশিয়া পৌঁছেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে ৭ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত এই সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনসহ সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিশদ আলোচনা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ এই মুহূর্তে ঢাকা-মস্কো সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় অর্থনীতি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা রয়েছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত কারণে দুই দেশের লেনদেন ও বাণিজ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ বা বাধা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার কৌশল খোঁজা আজকের বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গেছে।

মস্কো সফরকালে ড. খলিলুর রহমান কেবল রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেই বৈঠক করছেন না, বরং রুশ সরকারের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচিতে রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলি এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রসাটম স্টেট করপোরেশন’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিশেষ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, জাতিসংঘের বহুমাত্রিক কার্যক্রমে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে দুই দেশই বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের এপ্রিলে দ্বিপক্ষীয় সফরে সর্বশেষ রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এরপর গত ২০২৩ সালে একটি আনুষ্ঠানিক ঢাকা সফরে এসেছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মস্কো সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।