টিকা সংকটে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 24
হাম ও রুবেলার ভ্যাকসিন (টিকা) যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং টিকার অভাবে দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়।
আজ সোমবার (৮ জুন) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় এই মামলার আবেদনটি করেন। আবেদনের বিষয়ে শুনানি শেষে সেটি গ্রহণের ব্যাপারে আদালত পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ। মামলাটি দায়েরের সময় আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান উপস্থিত ছিলেন।
হাইপ্রোফাইল এই মামলার আবেদনে অভিযুক্তরা হলেন:
- সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
- সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান।
- সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত এবং বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে ১ নম্বর আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়মিত টিকা আমদানির যে প্রচলিত ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল, তা আসামিদের নির্দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেখানে দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়, যার ফলে দেশজুড়ে টিকার তীব্র ও ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স (যিনি এই মামলার ২ নম্বর সাক্ষী) গত ২০ মে গণমাধ্যমে জানান যে, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ১ থেকে ৫ নম্বর আসামির দপ্তরের ৫/৬টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আমদানি প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম অবহেলা প্রদর্শন করে সেই আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি।
টিকা না পাওয়ার কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব একপর্যায়ে প্রলয়ংকরী মহামারি আকার ধারণ করে। মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হিসাব মতেই গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫,৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। টিকার চরম অভাবের কারণে সরকারি তথ্যমতেই দেশে প্রায় ৬১০ জন কোমলমতি শিশুর নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং প্রায় ৭৫,৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযোগে নির্দিষ্ট করে কতিপয় শিশুর মৃত্যুর করুণ বিবরণ দিয়ে বলা হয়—বিগত ২ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের হারুনুর রশিদ ও ইশরাত জাহান দম্পতির সন্তান আবদুল্লাহ আল ফাহিম এবং ২২ মে আবদুল্লাহ আল নোমান নামে আরেক শিশু ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়া গত ২২ এপ্রিল জাফরজান ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিম ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।
বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি হওয়ায় প্রথমে স্থানীয় বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে সরাসরি আদালত বরাবর দায়ের করার পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে জেলহাজতে আটকে রাখার এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের প্রার্থনা জানানো হয়েছে।































