মধ্যপ্রাচ্যের নজরে পাকিস্তান, বাড়ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 50
পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে ইসলামাবাদে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নর্দার্ন লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সদস্যরা। ছবিটি ২৩ মার্চ ২০২২ সালে তোলা। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। কুয়েতের সঙ্গে বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে ইসলামাবাদের। বিনিময়ে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও কথা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে।
শুধু কুয়েতই নয়, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর আরও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS)–এর তথ্য অনুযায়ী, জনবল থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, সাবমেরিন এবং পারমাণবিক অস্ত্র- সব মিলিয়ে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে দেশটি।
সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তান এশিয়ায় চতুর্থ। চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়ার পরই অবস্থান দেশটির। বর্তমানে পাকিস্তানের সক্রিয় সামরিক সদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে-সেনাবাহিনীতে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য, বিমান বাহিনীতে ৭০ হাজার, নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জন মেরিন।
পাকিস্তানের স্থলবাহিনীর হাতে রয়েছে ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি আর্টিলারি এবং ২ হাজার ৫৭০টিরও বেশি প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক। সীমান্ত প্রতিরক্ষায় এগুলোকে দেশটির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে রয়েছে ৪২০টিরও বেশি যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন বিমান। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের F-16, চীনের আধুনিক J-10C এবং যৌথভাবে তৈরি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহরে রয়েছে ৮টি সাবমেরিন এবং ১২টি ফ্রিগেট, যা আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করে।
পাকিস্তানের হাতে রয়েছে ভূমি থেকে ভূমিতে এবং আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া দেশটির কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স






























