বিয়ের কথা বলে কাজীকে তুলে নিয়ে চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 59
মুন্সীগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে এক কাজীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চাঁদার দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান (৫২) মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার বেলা দুইটার দিকে রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে কাটাখালীর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর মামলা করেছেন। মামলায় রাজিব হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রাজিবসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। চাঁদার দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার এজাহারে হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সোমবার বেলা দুইটার দিকে তিনি কাটাখালীর বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজিব হোসেন, তার বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাকে কাটাখালীতে নিজের কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজীর লাইসেন্স বাতিল এবং তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, প্রাণভয়ে হাবিবুর টাকা দিতে রাজি হন। পরে তাকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তার হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। এরপর তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে ওই টাকা আসামিদের দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ভয়ে তার বাবা প্রথমে তাকে ঘটনাটি জানাতে চাননি। রাত ১০টার দিকে বিষয়টি জানার পর তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে জানান। পরে তার পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছুক্ষণ পর রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
নাহিদ হাসানের অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য তাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়। মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে; এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান নাহিদ।
এদিকে ঘটনার পর রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল। মঙ্গলবার দুপুরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।






























