ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ জনের নামে মামলা

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম আরিফ, ​নীলফামারী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 26

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকায় আব্দুল মান্নানের বাড়ি থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে এবং লালপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। চার বছর আগে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মান্নানের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নাছরিনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় নাছরিনের পরিবার আব্দুল মান্নানকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। তবে কিছুদিন ধরে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশও হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে ফের তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে নাছরিন এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় স্বামী আব্দুল মান্নান, তার বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও আলমগীরের স্ত্রী আরিফা বেগম তাকে মারধর করে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হচ্ছিল। যৌতুকের জন্য তাকে কয়েক দফা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিচার-সালিশও হয়েছিল। ঘটনার দিন ফের যৌতুক দাবি করা হলে প্রতিবাদ করায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৪ জনের নামে মামলা

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকায় আব্দুল মান্নানের বাড়ি থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে এবং লালপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। চার বছর আগে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মান্নানের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নাছরিনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় নাছরিনের পরিবার আব্দুল মান্নানকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। তবে কিছুদিন ধরে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশও হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে ফের তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে নাছরিন এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় স্বামী আব্দুল মান্নান, তার বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও আলমগীরের স্ত্রী আরিফা বেগম তাকে মারধর করে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হচ্ছিল। যৌতুকের জন্য তাকে কয়েক দফা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিচার-সালিশও হয়েছিল। ঘটনার দিন ফের যৌতুক দাবি করা হলে প্রতিবাদ করায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।