ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শাপলা চত্বর মামলা

ট্রাইব্যুনালে আনা হলো দীপু মনি- রুপা ও মোজাম্মেলকে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 37

দীপু মনি-রুপা-মোজাম্মেল বাবু

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, ওই সময় ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছিলেন।

রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের নৃশংস ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে। গত ৭ মে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ডা. দীপু মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন। মূলত শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে ৩ জন হাজির করার মাধ্যমে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দীপু মনি ওই ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছে। বর্তমানে শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে ৩ জন ছাড়াও আরও ছয়জন হাই-প্রোফাইল আসামি কারাগারে রয়েছেন।

এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক অন্যতম। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, শাপলা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে যে প্রাণহানি ঘটেছিল, তার দায় সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারক ও সহযোগীদের ওপর বর্তায়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ৩২ জনসহ মোট ৫৮ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে ৩ জন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাযজ্ঞের আরও গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে প্রসিকিউশন।

এই মামলায় পুলিশের একাধিক সাবেক ডিআইজি এবং জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, দীর্ঘ এক যুগ পর শুরু হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রম সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শাপলা চত্বর মামলা

ট্রাইব্যুনালে আনা হলো দীপু মনি- রুপা ও মোজাম্মেলকে

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, ওই সময় ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছিলেন।

রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের নৃশংস ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে। গত ৭ মে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ডা. দীপু মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন। মূলত শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে ৩ জন হাজির করার মাধ্যমে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দীপু মনি ওই ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছে। বর্তমানে শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে ৩ জন ছাড়াও আরও ছয়জন হাই-প্রোফাইল আসামি কারাগারে রয়েছেন।

এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক অন্যতম। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, শাপলা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে যে প্রাণহানি ঘটেছিল, তার দায় সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারক ও সহযোগীদের ওপর বর্তায়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ৩২ জনসহ মোট ৫৮ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে ৩ জন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাযজ্ঞের আরও গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে প্রসিকিউশন।

এই মামলায় পুলিশের একাধিক সাবেক ডিআইজি এবং জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, দীর্ঘ এক যুগ পর শুরু হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রম সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে।