যেকোনো আলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ শর্ত ইরানের
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 153
যুদ্ধবিরতি ও নতুন করে যেকোনো আলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে পাঁচটি শর্ত তুলে দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, এসব ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ বাস্তবায়ন ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্ভব নয়।
ইরান জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনা নিরসন ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে হলে আগে আস্থা ফেরাতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ জন্য পাঁচ দফা শর্ত দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (১২ মে) ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে এসব শর্তকে ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ হিসেবে দেখছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ইরানের দেওয়া পাঁচ শর্ত হলো—
* সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, বিশেষ করে লেবাননে হামলা বন্ধ করা
* ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
* জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা
* যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান
* হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া
সূত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও এ বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফার্স নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই এই পাঁচ শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ছিল একতরফা এবং যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জনে ব্যর্থ লক্ষ্যগুলো আলোচনার টেবিলে আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
উল্লেখ্য, জেনেভায় আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ওই হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হন বলে দাবি করে তেহরান। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দেয় ইরান।
এরপর টানা পাল্টাপাল্টি হামলা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।


































