ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 11

আইনজীবী বেশে মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক ব্যতিক্রমী রূপে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন। আইনজীবীর কালো গাউন ও শামলা পরে তিনি ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নেন।

১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করা মমতা এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সওয়াল করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আকস্মিকভাবেই আদালত চত্বরে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তিনি রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবীর বেশে সেখানে উপস্থিত হন।

মূলত আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার এই সাহসী পদক্ষেপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা তার দীর্ঘ আইনি ক্যারিয়ারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, ১৯৮৫ সাল থেকেই তিনি বার কাউন্সিলের সদস্য এবং নিয়মিত সদস্যপদ নবায়ন করে আসছেন।

বর্তমানে আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা সওয়াল করার সময় অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নজিরবিহীন অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী আদালতকে জানান যে, বিবাহিত নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাজ্যটি একটি ‘বুলডোজার রাজ্যে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা যেভাবে রাজ্যবাসীকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন, তা আইনি মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনি আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামা আকারে জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিশেষে বলা যায়, তার এই আইনি লড়াই নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা

সর্বশেষ আপডেট ০২:১০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক ব্যতিক্রমী রূপে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন। আইনজীবীর কালো গাউন ও শামলা পরে তিনি ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নেন।

১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করা মমতা এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সওয়াল করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আকস্মিকভাবেই আদালত চত্বরে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তিনি রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবীর বেশে সেখানে উপস্থিত হন।

মূলত আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার এই সাহসী পদক্ষেপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা তার দীর্ঘ আইনি ক্যারিয়ারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, ১৯৮৫ সাল থেকেই তিনি বার কাউন্সিলের সদস্য এবং নিয়মিত সদস্যপদ নবায়ন করে আসছেন।

বর্তমানে আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা সওয়াল করার সময় অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নজিরবিহীন অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী আদালতকে জানান যে, বিবাহিত নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাজ্যটি একটি ‘বুলডোজার রাজ্যে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে আইনজীবী বেশে আদালতে মমতা যেভাবে রাজ্যবাসীকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন, তা আইনি মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনি আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামা আকারে জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিশেষে বলা যায়, তার এই আইনি লড়াই নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।