কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড
কান্না-আহাজারিতে ভারী বেনাপোল সীমান্ত
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরের দিকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল সীমান্তে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।
গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরছে।
নিহতরা হলেন কুষ্টিয়া সদরের সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, আফসানার বাবা আকরাম আলী এবং সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু। ইতোমধ্যে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জোবায়ের বাবু চিকিৎসার জন্য অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন। আগুনে তারও মৃত্যু হয়। তার মরদেহ গ্রহণ করতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোলে অপেক্ষা করছেন বড় ভাই মোহাম্মাদ আলী।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর মরদেহ দেশে আসার কথা থাকলেও ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকালে মরদেহ আসার কথা থাকলেও পরে দুপুর নাগাদ পাওয়ার কথা জানতে পেরেছেন তারা।
এদিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেশে আনতে কলকাতায় রয়েছেন দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান। সেখানে থাকা আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও ভগ্নিপতির ভাই কাঞ্চন নন্দীও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। তাদের মরদেহ গ্রহণ করতে কুষ্টিয়ার স্বজন ও সহকর্মীরাও বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণাশীষের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। অন্যদিকে আফসানা শারমীন ও তার বাবা আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। নয় বছর আগে ধর্মীয় ভিন্নতা উপেক্ষা করে আফসানাকে বিয়ে করেছিলেন দেবাশীষ। তাদের সংসারে থাকা ১০ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান এখন বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে একা।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আরেক বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় কলকাতার নিমতলা ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন জানান, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে মরদেহবাহী গাড়ি ঠিক কখন বেনাপোলে পৌঁছাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


































