ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার পথে রোটনের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 87

কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার পথে রোটনের মরদেহ

ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোটনের মৃত্যু হয়। এরপর পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মরদেহ দেশে আনা এবং সীমান্ত পারাপারের আনুষ্ঠানিকতা তদারক করতে বাংলাদেশ অংশে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান এবং বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। এ সময় বিজিবি, পুলিশ, ডিবি পুলিশ, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলকাতা থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা ও নিকটাত্মীয় সোহানুর রহমান বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর আগে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বেনাপোলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কড়া নিরাপত্তায় মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোটন ভারতের কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার পথে রোটনের মরদেহ

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোটনের মৃত্যু হয়। এরপর পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মরদেহ দেশে আনা এবং সীমান্ত পারাপারের আনুষ্ঠানিকতা তদারক করতে বাংলাদেশ অংশে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান এবং বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। এ সময় বিজিবি, পুলিশ, ডিবি পুলিশ, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলকাতা থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা ও নিকটাত্মীয় সোহানুর রহমান বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর আগে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বেনাপোলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কড়া নিরাপত্তায় মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোটন ভারতের কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।