ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লির পর ফের উত্তপ্ত ভারতের মণিপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 8

দিল্লির পর ফের উত্তপ্ত ভারতের মণিপুর

নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র আন্দোলন ঘিরে এমনিতেই উত্তপ্ত ভারত। এরই মাঝে ফের উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ দাবি করেন, রাজ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় একদিনে অন্তত সাত জনের মৃত্যু, একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ এবং একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির নেতা হয়েও বীরেন এদিন তার সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মণিপুরে হতাহতের প্রথম ঘটনায়, শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ কুকি গ্রামে ৪২ বছর বয়সী এক কুকি নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এরপর নাগা বনাম কুকিদের মধ্যে শুরু হওয়া গোলাগুলি শনিবার সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। এই সংঘর্ষে ২২ বছর বয়সী এক যুবকও নিহত হন। নিংচৌ গ্রামে কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা এবং ভিলেজ ভলান্টিয়ার অব ইস্টার্ন জোনের সমন্বিত হামলায় দুই নাগা নিহত হন। নাগা সিভিল ডিফেন্সের দুই স্বেচ্ছাসেবক গুলিবিদ্ধ হন। শনিবার সকালে নিংচৌ গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় দুই নাগা ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া উখরুল জেলায় সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় ৪০ বছর বয়সী এক নেপালি নিহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কামজং জেলা প্রশাসন পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, অস্ত্র বহন এবং নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিকে কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার বন্‌ধ ডেকেছে। কুকি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, দিল্লি ও এনসিআরের কুকি-জো উইমেন্স ফোরাম কুকি নারী হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাঁর পাঁচ সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

পরিস্থিতিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করে বীরেন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কড়া অভিযান এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত আরও শক্তিশালীভাবে সিল করার দাবি জানিয়েছেন।

সবশেষ এই সহিংসতাকে গত এক বছরের মধ্যে মণিপুরের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি রাজ্য কর্তৃপক্ষ। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন অবশ্য মণিপুর এবং মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছে।

সম্প্রতি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পুনর্বাসন, যাত্রীবাহী বাস চালু করা, অর্থ সাহায্য প্রদানের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে রাজ্যে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে, সেসব শাহকে জানিয়ে তিনি তাকে মণিপুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শাহ জানান, তিনি অক্টোবরেই মণিপুরে যাবেন। কিন্তু, খেমচাঁদ ফেরার পর থেকেই অশান্তি বাড়ছে।

এমন অবস্থায় মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী ইউনাম খেমচাঁদ সিংহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খেমচাঁদ সিংহ মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি ইমফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া এবং ইম্ফল-শিলচর সড়ক ও ইমফল-ডিমাপুর সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন।

এছাড়া বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দূর করতে রাজ্য সরকারের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে খেমচাঁদ কয়েকটি রাজ্য সড়ককে জাতীয় সড়কে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদনের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি, ইমফলের রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস)-কে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর মর্যাদা দেয়ার দাবিও উত্থাপন করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মণিপুর সফরের আমন্ত্রণও জানান। প্রধানমন্ত্রী মণিপুরে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেন, রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, মণিপুরের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দিল্লির পর ফের উত্তপ্ত ভারতের মণিপুর

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র আন্দোলন ঘিরে এমনিতেই উত্তপ্ত ভারত। এরই মাঝে ফের উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ দাবি করেন, রাজ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় একদিনে অন্তত সাত জনের মৃত্যু, একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ এবং একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির নেতা হয়েও বীরেন এদিন তার সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মণিপুরে হতাহতের প্রথম ঘটনায়, শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ কুকি গ্রামে ৪২ বছর বয়সী এক কুকি নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এরপর নাগা বনাম কুকিদের মধ্যে শুরু হওয়া গোলাগুলি শনিবার সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। এই সংঘর্ষে ২২ বছর বয়সী এক যুবকও নিহত হন। নিংচৌ গ্রামে কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা এবং ভিলেজ ভলান্টিয়ার অব ইস্টার্ন জোনের সমন্বিত হামলায় দুই নাগা নিহত হন। নাগা সিভিল ডিফেন্সের দুই স্বেচ্ছাসেবক গুলিবিদ্ধ হন। শনিবার সকালে নিংচৌ গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় দুই নাগা ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া উখরুল জেলায় সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় ৪০ বছর বয়সী এক নেপালি নিহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কামজং জেলা প্রশাসন পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, অস্ত্র বহন এবং নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিকে কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার বন্‌ধ ডেকেছে। কুকি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, দিল্লি ও এনসিআরের কুকি-জো উইমেন্স ফোরাম কুকি নারী হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাঁর পাঁচ সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

পরিস্থিতিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করে বীরেন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কড়া অভিযান এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত আরও শক্তিশালীভাবে সিল করার দাবি জানিয়েছেন।

সবশেষ এই সহিংসতাকে গত এক বছরের মধ্যে মণিপুরের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি রাজ্য কর্তৃপক্ষ। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন অবশ্য মণিপুর এবং মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছে।

সম্প্রতি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পুনর্বাসন, যাত্রীবাহী বাস চালু করা, অর্থ সাহায্য প্রদানের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে রাজ্যে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে, সেসব শাহকে জানিয়ে তিনি তাকে মণিপুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শাহ জানান, তিনি অক্টোবরেই মণিপুরে যাবেন। কিন্তু, খেমচাঁদ ফেরার পর থেকেই অশান্তি বাড়ছে।

এমন অবস্থায় মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী ইউনাম খেমচাঁদ সিংহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খেমচাঁদ সিংহ মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি ইমফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া এবং ইম্ফল-শিলচর সড়ক ও ইমফল-ডিমাপুর সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন।

এছাড়া বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দূর করতে রাজ্য সরকারের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে খেমচাঁদ কয়েকটি রাজ্য সড়ককে জাতীয় সড়কে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদনের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি, ইমফলের রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস)-কে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর মর্যাদা দেয়ার দাবিও উত্থাপন করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মণিপুর সফরের আমন্ত্রণও জানান। প্রধানমন্ত্রী মণিপুরে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেন, রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, মণিপুরের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।