ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি পর একাদশে ভর্তি কমা উদ্বেগজনক: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 17

এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ভর্তি না হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানান, এবার তিন ধারার শিক্ষায়ই ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে এসএসসি পর ঝরে পড়ার হার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকত। কিন্তু এবার মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হয়নি। তার ভাষায়, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এবার ফরম পূরণই করেনি, যা সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। বিষয়টির মূল কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নীতিনির্ধারণে সহায়তা করছে এবং সরকার সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ও উঠে আসে। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা কাটতে শুরু করেছে।

তার মতে, রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির আওতায় আসতে পারেন এবং শূন্য পদ পূরণের পথও খুলবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় প্রাথমিক শিক্ষায় প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। অনেক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালাতে হয়েছে, যা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও শিক্ষক সংকট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করতে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এসএসসি পর একাদশে ভর্তি কমা উদ্বেগজনক: শিক্ষামন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ভর্তি না হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানান, এবার তিন ধারার শিক্ষায়ই ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে এসএসসি পর ঝরে পড়ার হার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকত। কিন্তু এবার মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হয়নি। তার ভাষায়, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এবার ফরম পূরণই করেনি, যা সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। বিষয়টির মূল কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নীতিনির্ধারণে সহায়তা করছে এবং সরকার সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ও উঠে আসে। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা কাটতে শুরু করেছে।

তার মতে, রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির আওতায় আসতে পারেন এবং শূন্য পদ পূরণের পথও খুলবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় প্রাথমিক শিক্ষায় প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। অনেক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালাতে হয়েছে, যা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও শিক্ষক সংকট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করতে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।