ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজির বাজারে চলছে দামের নৈরাজ্য

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

এলপিজি

দেশের এলপিজির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আমদানি কমিয়ে দেয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। শেষ পর্যন্ত দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক কোম্পানির এলসি সীমা কমিয়ে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি সরবরাহে সংকট দেখা দিলে দেশের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। তখন দুই মাসের মধ্যে আমদানি শুরু করার কথা বলা হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপিসি নিজস্বভাবে এলপিজি আমদানির সক্ষমতা তৈরি করতে পারলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানির পাশাপাশি সরকার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে মজুত সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, বিপিসি আমদানি করা এলপিজি কিনতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর তালিকা তারা দিয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মজুত সক্ষমতা ব্যবহার করেও বিপিসিকে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত।

লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, বিপিসিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে যে তারা এলপিজি আমদানি করলে নির্ধারিত মূল্যে তা কিনতে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিপিসি এলপিজি আমদানি করতে পারেনি। তার মতে, বিপিসির বর্তমান ক্রয়প্রক্রিয়াতেই সমস্যা রয়েছে।

অন্যদিকে বিপিসি বলছে, এলপিজি কোন বাজার থেকে আমদানি করা হবে, কোথায় জাহাজ নোঙর করবে এবং কীভাবে মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা হবে; এসব বিষয়ে এখনো সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই আমদানির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এলপিজির বাজারে চলছে দামের নৈরাজ্য

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের এলপিজির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আমদানি কমিয়ে দেয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। শেষ পর্যন্ত দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক কোম্পানির এলসি সীমা কমিয়ে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি সরবরাহে সংকট দেখা দিলে দেশের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। তখন দুই মাসের মধ্যে আমদানি শুরু করার কথা বলা হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপিসি নিজস্বভাবে এলপিজি আমদানির সক্ষমতা তৈরি করতে পারলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানির পাশাপাশি সরকার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে মজুত সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, বিপিসি আমদানি করা এলপিজি কিনতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর তালিকা তারা দিয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মজুত সক্ষমতা ব্যবহার করেও বিপিসিকে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত।

লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, বিপিসিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে যে তারা এলপিজি আমদানি করলে নির্ধারিত মূল্যে তা কিনতে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিপিসি এলপিজি আমদানি করতে পারেনি। তার মতে, বিপিসির বর্তমান ক্রয়প্রক্রিয়াতেই সমস্যা রয়েছে।

অন্যদিকে বিপিসি বলছে, এলপিজি কোন বাজার থেকে আমদানি করা হবে, কোথায় জাহাজ নোঙর করবে এবং কীভাবে মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা হবে; এসব বিষয়ে এখনো সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই আমদানির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।