এমপি নজরুলের ৪, প্রথম স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 45
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে হাজতখানা থেকে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। তাদের আদালতে হাজির করার সময় সেখানে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত জুনে ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। ওই বাসায় নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে সেখানে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মকে ঝুলতে দেখা যায়।
পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। মরিয়মের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও উদ্ধার করা হয়। সেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ ছিল বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
মরিয়মের পরিবারের দাবি, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় তার সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল। পরে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।




























