ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, বাড়ল লোডশেডিং

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 111

বিদ্যুৎ

একদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গরম বাড়ছে, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় ওই সময়ের চাহিদা অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট কম থাকলেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে আদানির একটি ইউনিট আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। একই সময়ে দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়েছে। এতে একযোগে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নতুন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর বাইরে আগের সমস্যাগুলোও রয়েছে।

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, যা এক দিন আগে ছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র বুধবারও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া গ্যাস-সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা কম সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির প্রভাব পড়েছে সরাসরি গ্রাহকদের ওপর। কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছুটা কমে আসা লোডশেডিং আবারও বেড়েছে। রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে চারবার পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনেক এলাকায় আবারও দিনে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফলে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একের পর এক অচল হয়ে পড়া এবং উৎপাদন ঘাটতিতে জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ বাড়ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, বাড়ল লোডশেডিং

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গরম বাড়ছে, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় ওই সময়ের চাহিদা অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট কম থাকলেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে আদানির একটি ইউনিট আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। একই সময়ে দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়েছে। এতে একযোগে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নতুন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর বাইরে আগের সমস্যাগুলোও রয়েছে।

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, যা এক দিন আগে ছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র বুধবারও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া গ্যাস-সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা কম সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির প্রভাব পড়েছে সরাসরি গ্রাহকদের ওপর। কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছুটা কমে আসা লোডশেডিং আবারও বেড়েছে। রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে চারবার পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনেক এলাকায় আবারও দিনে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফলে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একের পর এক অচল হয়ে পড়া এবং উৎপাদন ঘাটতিতে জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ বাড়ছে।