ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার ফাঁদে পা দিল তারেক সরকার!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 273

তারেক রহমান-শেখ হাসিনা

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই ঘোষণার পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থানও সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ-ভারত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। কারণ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

ট্রাভেল পাস না দেয়ার বিষয়টি সরকার অনেক আগেই সামনে আনায় শেখ হাসিনার পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার; এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে দলটি। তাদের দাবি, সরকার বাধা সৃষ্টি করলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেবে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। অন্যদিকে দেশে ফিরতে দিলে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখানেই তৈরি হয়েছে সরকারের জন্য কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ। শেখ হাসিনাকে ফিরতে বাধা দিলে আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে রাজনৈতিক অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে পারে। আবার দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসবে। ফলে সরকারকে একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা দলটির নেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনার একটি ঘোষণাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এবং জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ট্রাভেল পাস না দেওয়ার বক্তব্য আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে সরকার কীভাবে সেই প্রক্রিয়া মোকাবিলা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এটিকে কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিএনপি সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে। আর প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে আওয়ামী লীগ সেটিকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের দেশে ফেরার ঘোষণা তার নিজের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, নাকি সত্যিই দেশে ফেরার প্রস্তুতি; তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার যে নতুন রাজনৈতিক চাপে পড়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার ঘোষণার জবাব দিতে গিয়ে তারেক রহমানের সরকার কি এমন এক রাজনৈতিক খেলায় জড়িয়ে পড়ছে, যার সুবিধা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই পাবে? নাকি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে?

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ হাসিনার ফাঁদে পা দিল তারেক সরকার!

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই ঘোষণার পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থানও সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ-ভারত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। কারণ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

ট্রাভেল পাস না দেয়ার বিষয়টি সরকার অনেক আগেই সামনে আনায় শেখ হাসিনার পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার; এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে দলটি। তাদের দাবি, সরকার বাধা সৃষ্টি করলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেবে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। অন্যদিকে দেশে ফিরতে দিলে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখানেই তৈরি হয়েছে সরকারের জন্য কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ। শেখ হাসিনাকে ফিরতে বাধা দিলে আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে রাজনৈতিক অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে পারে। আবার দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসবে। ফলে সরকারকে একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা দলটির নেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনার একটি ঘোষণাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এবং জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ট্রাভেল পাস না দেওয়ার বক্তব্য আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে সরকার কীভাবে সেই প্রক্রিয়া মোকাবিলা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এটিকে কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিএনপি সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে। আর প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে আওয়ামী লীগ সেটিকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের দেশে ফেরার ঘোষণা তার নিজের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, নাকি সত্যিই দেশে ফেরার প্রস্তুতি; তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার যে নতুন রাজনৈতিক চাপে পড়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার ঘোষণার জবাব দিতে গিয়ে তারেক রহমানের সরকার কি এমন এক রাজনৈতিক খেলায় জড়িয়ে পড়ছে, যার সুবিধা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই পাবে? নাকি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে?