গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৭৩৯ কর্মী ছাঁটাই
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 52
গাজীপুরের কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে রয়েছে। কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে অতিরিক্ত জনবল ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই কার্যকর হবে। তাঁদের আইনানুগ পাওনাও পরিশোধ করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা যায়।
কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করে আসছি। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই চিন্তার বিষয়।’
প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করা আবেদা বেগমও চাকরি হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন। কারখানার ফটকের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘এত বছর চাকরি করে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাঁদের চাকরি বহাল রয়েছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সুবিধা পাবেন।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান এ ছাঁটাইয়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাঁচবার লে-অফের পর এক নোটিশে ৭৩৯ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁদের বকেয়া পাওনা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।






























