ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুঃখু মিয়ার স্বপ্নপূরণে পাশে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 60

দুঃখু মিয়ার স্বপ্নপূরণে পাশে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

নরসিংদীতে জন্ম থেকেই দুই হাত নেই আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করেছেন, চাকরির জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। চাকরি না পেয়ে নিজের পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়। স্থানীয়ভাবে দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত এই মানুষটি এখন ১৪৫ শিশুর শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। তাঁর স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর নয়, সারা দেশের গর্ব। আত্মবিশ্বাস, কর্মস্পৃহা ও অদম্য মনোবল দিয়ে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। সরকার ও জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সবুজ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক জানান, বিদ্যালয়ের ১৪৫ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের জন্য চারা আনা হয়েছে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া চারাগুলো একদিন বড় বৃক্ষে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুঃখু মিয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি থেমে যাননি কিংবা হাল ছেড়ে দেননি। নিজেই উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টা শুধু নরসিংদী নয়, পুরো দেশের জন্য গর্বের বিষয়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হবে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির স্বপ্ন নয়, এর সঙ্গে এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

১৯৬২ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন। তাঁর বাবা প্রয়াত তমিজ উদ্দিন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে তাঁর নাম রেখেছিলেন দুঃখু মিয়া। তবে নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনসংগ্রামে হার মানেননি তিনি। নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অন্য শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দুঃখু মিয়াকে অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ সময় নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন রানা, পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লোকমান হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুঃখু মিয়ার স্বপ্নপূরণে পাশে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

নরসিংদীতে জন্ম থেকেই দুই হাত নেই আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করেছেন, চাকরির জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। চাকরি না পেয়ে নিজের পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়। স্থানীয়ভাবে দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত এই মানুষটি এখন ১৪৫ শিশুর শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। তাঁর স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর নয়, সারা দেশের গর্ব। আত্মবিশ্বাস, কর্মস্পৃহা ও অদম্য মনোবল দিয়ে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। সরকার ও জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সবুজ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক জানান, বিদ্যালয়ের ১৪৫ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের জন্য চারা আনা হয়েছে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া চারাগুলো একদিন বড় বৃক্ষে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুঃখু মিয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি থেমে যাননি কিংবা হাল ছেড়ে দেননি। নিজেই উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টা শুধু নরসিংদী নয়, পুরো দেশের জন্য গর্বের বিষয়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হবে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির স্বপ্ন নয়, এর সঙ্গে এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

১৯৬২ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন। তাঁর বাবা প্রয়াত তমিজ উদ্দিন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে তাঁর নাম রেখেছিলেন দুঃখু মিয়া। তবে নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনসংগ্রামে হার মানেননি তিনি। নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অন্য শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দুঃখু মিয়াকে অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ সময় নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন রানা, পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লোকমান হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।