স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপি শোভাযাত্রা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 82
দেশে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে পালিত হয়েছে ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডা. মিলন হলে সংলাপ এবং শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে দিবসটি পালন করে আসছে।
ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তারা স্তন ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান তৈরিতে জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন চালু, ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বজুড়েই নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এ রোগ নিয়ে লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে বিদ্যমান সীমিত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব।
মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আশাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ কার্যক্রমের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
তিনি সরকারি পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের বিত্তবানদের অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বিএমইউর গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ অন্যরা।
সংলাপ শেষে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।






























