ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার শুভ মহালয়া, শুরু দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 22

মহালয়া

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) উদযাপিত হবে শুভ মহালয়া। এদিন ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা। মহালয়ার মধ্য দিয়েই মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার দিন। এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। একই সঙ্গে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন উপলক্ষে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা স্বর্গচ্যুত হলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দেবী দুর্গার। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তাকে পরাজিত করেন। মহালয়া সেই অসুরবিনাশী শক্তির আবাহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চণ্ডীপাঠসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া রমনা কালী মন্দির, ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন থাকবে।

রমনা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু জানান, শনিবার ভোরে মন্দিরে মহালয়া উদযাপন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকায় বিদায় নেবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবকে সামনে রেখে মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

বাসুদেব ধর বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এ সিদ্ধান্তের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রধান উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পূজা কমিটি, মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রতিবছর এ উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শনিবার শুভ মহালয়া, শুরু দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) উদযাপিত হবে শুভ মহালয়া। এদিন ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা। মহালয়ার মধ্য দিয়েই মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার দিন। এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। একই সঙ্গে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন উপলক্ষে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা স্বর্গচ্যুত হলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে সৃষ্টি হয় দেবী দুর্গার। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তাকে পরাজিত করেন। মহালয়া সেই অসুরবিনাশী শক্তির আবাহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চণ্ডীপাঠসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া রমনা কালী মন্দির, ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন থাকবে।

রমনা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু জানান, শনিবার ভোরে মন্দিরে মহালয়া উদযাপন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকায় বিদায় নেবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবকে সামনে রেখে মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

বাসুদেব ধর বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এ সিদ্ধান্তের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রধান উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পূজা কমিটি, মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রতিবছর এ উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয়।