ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কাঠামো চূড়ান্ত নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 18

তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কাঠামো চূড়ান্ত নয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং এতে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠনপ্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করা হচ্ছে। প্রাপ্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কাঠামোটি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমতও রয়েছে। কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা করে একটি সর্বসম্মত কাঠামোয় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের লিখিত প্রস্তাব দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু গণমাধ্যম নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে আলোচনা করবে বিশেষ কমিটি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা বা নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর মতামত নেওয়া হবে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্যকে সম্মান জানিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের পথেই তারা এগোতে চান। তবে আইনসভা বা সরকারি দল এ বিষয়ে উপযুক্ত কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দিলে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না জানিয়ে বিরোধী দলগুলোকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনী প্রণয়নই তাদের লক্ষ্য।

বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না; এমন নীতিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিকল্প প্রস্তাব সংসদে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রয়োজনে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করতে পারে।

বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর তা সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সংসদ ও সংসদের বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কাঠামো চূড়ান্ত নয়

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং এতে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠনপ্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করা হচ্ছে। প্রাপ্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কাঠামোটি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমতও রয়েছে। কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা করে একটি সর্বসম্মত কাঠামোয় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের লিখিত প্রস্তাব দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু গণমাধ্যম নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে আলোচনা করবে বিশেষ কমিটি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা বা নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর মতামত নেওয়া হবে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্যকে সম্মান জানিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের পথেই তারা এগোতে চান। তবে আইনসভা বা সরকারি দল এ বিষয়ে উপযুক্ত কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দিলে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না জানিয়ে বিরোধী দলগুলোকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনী প্রণয়নই তাদের লক্ষ্য।

বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না; এমন নীতিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিকল্প প্রস্তাব সংসদে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রয়োজনে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করতে পারে।

বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর তা সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সংসদ ও সংসদের বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।