‘ভালো’ রোগী কেন হাসপাতালে মারা যান
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 220
আমার ভালো রোগী হাসপাতালে মারা গেল! এই একটি বাক্যের মধ্যে কতখানি শোক, বিস্ময় আর অসহায়তা লুকিয়ে থাকে! প্রিয় মানুষটি কিছুক্ষণ আগেও কথা বলেছেন, নিজের পায়ে হেঁটে হাসপাতালে এসেছেন, হয়তো স্বজনকে আশ্বস্ত করে বলেছেন “আমি তো ভালোই আছি।” তারপর হঠাৎ অবস্থার অবনতি। একসময় চিকিৎসক এসে জানালেন সেই অসহনীয় সংবাদ।
পরিবারের মনে তখন প্রশ্ন জাগে; যে মানুষটি কথা বলছিলেন, যাঁকে দেখে এতটা অসুস্থ মনে হয়নি, তিনি কীভাবে মারা গেলেন? হাসপাতালে আনার পরও কেন তাঁকে বাঁচানো গেল না?
এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় সহমর্মিতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা এবং চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য দিয়ে। বিশ্ব হার্ট দিবসে এই আক্ষেপ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়: বাইরে থেকে ভালো দেখানো আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে বিপদমুক্ত থাকা এক কথা নয়।
“Don’t Miss a Beat” এই আহ্বানকে জীবনে অর্থবহ করে তুলতে হলে হৃদ্রোগের কোনো সতর্কসংকেত যেন অবহেলায় হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, আপাত সুস্থতার আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে হৃদ্রোগ। তাই সচেতনতার বার্তা হোক তিনটি সহজ কথায়; সংকেত চিনুন, ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন, সময়মতো পদক্ষেপ নিন।
আপাত সুস্থতা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়
আমরা সাধারণত অসুস্থতাকে বিচার করি দৃশ্যমান কিছু লক্ষণ দিয়ে। মানুষটি হাঁটতে পারছেন কি না, কথা বলছেন কি না, খেতে পারছেন কি না; এসব দেখে তাঁর অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ভেতরে কী ঘটছে, তা শুধু বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি এবং তামাকের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অতিরিক্ত ওজনও এই ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। অথচ মানুষটি নিজের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। তাই “আমার কোনো অসুবিধা হয় না”; কথাটি স্বস্তির হলেও ঝুঁকিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা নয়।
নিয়মিত হাঁটেন, কর্মব্যস্ত থাকেন কিংবা দেখতে সুস্থ; এমন মানুষেরও হৃদ্রোগ হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে; পাশাপাশি নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়াও জরুরি।
কথা বলছিলেন, তবু বিপদে ছিলেন
হার্ট অ্যাটাক হলে হৃদ্পেশির কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা হঠাৎ বন্ধ করে দেয়। দুটি অবস্থা আলাদা হলেও হার্ট অ্যাটাক থেকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। তখন কিছুক্ষণ আগেও সচেতন থাকা মানুষটি হঠাৎ অচেতন হয়ে যেতে পারেন।
আবার হৃদ্যন্ত্রের পাম্প করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো পর্যাপ্ত রক্ত পায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় কার্ডিওজেনিক শক। এটি হার্ট অ্যাটাকের একটি প্রাণঘাতী জটিলতা, যার জন্য দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এ কারণেই রোগী কথা বলছেন বলে তাঁকে বিপদমুক্ত ধরে নেওয়া যায় না। পরিবারের চোখে তিনি তখনো “ভালো” থাকতে পারেন, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে তাঁর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
সংকেত চিনুন: “গ্যাসের ব্যথা” ভেবে সময় হারাবেন না
বুকের অস্বস্তিকে গ্যাস বলে ধরে নেওয়া আমাদের পরিচিত অভ্যাস। কেউ ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ ভাবেন বিশ্রাম নিলেই সেরে যাবে, কেউ আবার পরিবারের কাউকে উদ্বিগ্ন করতে চান না। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক সব সময় অসহনীয় বুকব্যথা দিয়ে শুরু হয় না।
বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি, চেপে ধরা বা অস্বস্তি; এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড় কিংবা চোয়ালে অস্বস্তি; শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব বা মাথা হালকা লাগা; এসব সতর্কসংকেত হতে পারে। উপসর্গ কিছুক্ষণ থেকে কমে গিয়ে আবারও দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রেও বুকব্যথা বা অস্বস্তি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ, তবে অন্য উপসর্গও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
প্রতিটি বুকব্যথাই হার্ট অ্যাটাক নয়। কিন্তু ঘরে বসে আন্দাজ করে গুরুতর কারণ বাদ দেওয়া নিরাপদ নয়। সন্দেহজনক উপসর্গ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার সাহায্য নিতে হবে। ব্যথা সহ্য করা যাচ্ছে কিংবা কিছুটা কমেছে বলে নিশ্চিন্ত হয়ে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন: নিজের স্বাস্থ্যের হিসাব রাখুন
নিজের রক্তচাপ কত, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের অবস্থা কী; এসব তথ্য জানা প্রয়োজন। তামাক বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে হবে।
ঝুঁকি সম্পর্কে জানার অর্থ অকারণে ভয় পাওয়া কিংবা নির্বিচারে পরীক্ষা করানো নয়। বয়স, উপসর্গ ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে মূল্যায়ন করাই যুক্তিযুক্ত।
পরিবারেও স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার পরিবেশ প্রয়োজন। অসুস্থতার কথা বলা যেন দুর্বলতার পরিচয় না হয়। কেউ উপসর্গের কথা জানালে “তোমার কিছু হয়নি” বলে উড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। সচেতনতা শুরু হতে পারে পরিবারের এই ছোট্ট অভ্যাস থেকেই।
সময়মতো পদক্ষেপ নিন: অপেক্ষার মূল্য অনেক বড় হতে পারে
হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট অ্যাটাকে বন্ধ রক্তনালি দ্রুত খুলে দিতে জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা প্রাইমারি পিসিআই প্রয়োজন হতে পারে। কোন রোগীর কী চিকিৎসা লাগবে, তা তাঁর অবস্থা ও পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করেন। জরুরি সেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ চিকিৎসা শুরু এবং উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে পারে।
সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে চেম্বারের সিরিয়াল, পরিচিত কারও মতামত কিংবা সকাল হওয়ার অপেক্ষা করা উচিত নয়। পরিবারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে; স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে, রোগী পৌঁছানোর পর মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় যেন অযৌক্তিক বিলম্ব না হয়।
সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার এই দায়িত্ব রোগী, পরিবার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান; সবার।

হাসপাতালে পৌঁছালেই সব ঝুঁকি শেষ হয় না
হাসপাতাল রোগীর জন্য আশ্রয় ও ভরসার জায়গা। সেখানে পৌঁছালে পরিবার স্বাভাবিকভাবেই আশা করে; এবার মানুষটি নিরাপদ। কিন্তু ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগের সব ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। রোগের তীব্রতা ও জটিলতা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
এই বাস্তবতা পরিবারকে বুঝিয়ে বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে কেন, দৃশ্যত ভালো থাকলেও কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, অবস্থার অবনতি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; এসব বিষয় শুরু থেকেই সহজ ভাষায় জানানো প্রয়োজন।
শুধু একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া কার্যকর যোগাযোগের বিকল্প হতে পারে না। প্রয়োজন বোধগম্য ব্যাখ্যা, প্রশ্ন করার সুযোগ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মিত তথ্য দেওয়া।
মৃত্যুর ব্যাখ্যা প্রয়োজন, অনুমান যথেষ্ট নয়
হাসপাতালে মৃত্যু মানেই চিকিৎসায় অবহেলা; এমন সিদ্ধান্ত যেমন যথার্থ নয়, তেমনি “রোগী গুরুতর ছিলেন” বলেই সব প্রশ্নের উত্তর শেষ হয়ে যায় না।
রোগীর কী হয়েছিল, কখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, কী পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, কোথাও বিলম্ব হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের তথ্যভিত্তিক উত্তর পরিবারকে দিতে হবে। অভিযোগ থাকলে চিকিৎসার নথি ও ঘটনাক্রম পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিবারের শোকের মুহূর্তে কঠিন পরিভাষায় সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা যথেষ্ট হয় না। তাঁদের বোঝার ভাষায় কথা বলতে হবে, প্রশ্ন শুনতে হবে এবং মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। চিকিৎসার প্রতি আস্থা গড়ে ওঠে দক্ষতার সঙ্গে এই মানবিক আচরণ যুক্ত হলে।
এই যোগাযোগের জন্য হাসপাতালকেও ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ব্যস্ত চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সদিচ্ছার ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না; প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল, দায়িত্বের স্পষ্টতা এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলার নির্ধারিত ব্যবস্থা।
অচেতন মানুষটির পাশে দাঁড়াতে শিখুন
কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হঠাৎ অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে, অথবা শুধু অনিয়মিত হাঁসফাঁস করলে, সেটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে নিতে হবে। দ্রুত সাহায্য ডাকতে হবে এবং বুকের মাঝখানে চাপ দিয়ে সিপিআর শুরু করতে হবে। কাছে স্বয়ংক্রিয় বাহ্যিক ডিফিব্রিলেটর বা এইডি থাকলে সেটির নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যবহার করতে হবে। দ্রুত সিপিআর ও এইডির ব্যবহার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
এই দক্ষতা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, পরিবহনকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত মানুষের সঠিক পদক্ষেপ জীবনরক্ষার প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে।
সচেতন মানুষের জন্য প্রস্তুত স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাই
মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে আসতে বলার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালকেও প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজন কার্যকর জরুরি বিভাগ, প্রশিক্ষিত দল, দ্রুত পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও পুনরুজ্জীবন সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসায় পৌঁছানোর সুস্পষ্ট ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে হৃদ্রোগের জরুরি সেবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ও রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কোন হাসপাতালে কী সেবা পাওয়া যাবে, রোগীকে কোথায় পাঠাতে হবে এবং গ্রহণকারী দলকে কীভাবে আগে জানানো হবে; এসব নির্ধারিত থাকা উচিত। অর্থের সংকট যেন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করার পথে বাধা না হয়, সে জন্যও কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন।
বিশ্ব হার্ট দিবসের আয়োজন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সচেতনতার বার্তা মানুষের আচরণে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আনবে।
“আমার ভালো রোগী হাসপাতালে মারা গেল”; এই আক্ষেপের সামনে আমাদের দায়িত্ব হলো শোকাহত পরিবারকে সম্মান করা, ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানো।
২৯ সেপ্টেম্বর আমাদের অঙ্গীকার হোক; আপাত সুস্থতার আড়ালে থাকা ঝুঁকি সম্পর্কে জানব, সতর্কসংকেত অবহেলা করব না, চিকিৎসায় বিলম্ব কমাব এবং রোগী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে স্বচ্ছ ও সহমর্মী সম্পর্ক গড়ে তুলব।
Don’t Miss a Beat কোনো সতর্কসংকেত যেন এড়িয়ে না যায়।
সংকেত চিনুন। ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন। সময়মতো পদক্ষেপ নিন।
একটি হৃদ্স্পন্দন থেমে গেলে শুধু একজন মানুষের জীবন শেষ হয় নাএকটি পরিবারের পৃথিবী বদলে যায়।
লেখক পরিচিতি
অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম
এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (কার্ডিওলজি)
ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ
পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা































