ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 206

নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে এক নারীর সঙ্গে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন মাহবুব। তবে বিয়ের দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন আন্নি আক্তার নামে এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। আন্নির অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় কর্মরত থাকেন, সেখানে গিয়ে বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নি জানান, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে ওই নারীকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন দেখেছিলেন তিনি। সে সময় সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

আন্নির ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে একজন নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখানে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

পরে চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা ভাঙেনি বলে অভিযোগ করেন আন্নি। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা খুলে দেন। আন্নির দাবি, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মাহবুব ও ওই নারী ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খোলার অনুরোধ করলেও মাহবুব দরজা খোলেননি।

দরজা খোলার পর মাহবুব ওই নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দেওয়ার দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে বর্তমানে সঙ্গে থাকা নারীর সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম জমা দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি ওই তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

আন্নি একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তিনি মাহবুবের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব ও ওই নারীকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়। মাহবুবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান আন্নি।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশিয়ায় যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে এক নারীর সঙ্গে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন মাহবুব। তবে বিয়ের দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন আন্নি আক্তার নামে এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। আন্নির অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় কর্মরত থাকেন, সেখানে গিয়ে বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নি জানান, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে ওই নারীকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন দেখেছিলেন তিনি। সে সময় সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

আন্নির ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে একজন নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখানে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

পরে চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা ভাঙেনি বলে অভিযোগ করেন আন্নি। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা খুলে দেন। আন্নির দাবি, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মাহবুব ও ওই নারী ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খোলার অনুরোধ করলেও মাহবুব দরজা খোলেননি।

দরজা খোলার পর মাহবুব ওই নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দেওয়ার দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে বর্তমানে সঙ্গে থাকা নারীর সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম জমা দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি ওই তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

আন্নি একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তিনি মাহবুবের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব ও ওই নারীকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়। মাহবুবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান আন্নি।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশিয়ায় যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।