ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 27

শরীয়তপুরে মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রাণনাশের হুমকি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় মো. লিটন খান (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

লিটন খান নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারের ‘লিটন ডেকোরেটর অ্যান্ড লাইটিং’-এর স্বত্বাধিকারী। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে রাকিব মাদবর নামে এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল ফোনে কল করেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য ডেকোরেটর ও লাইটিং ভাড়া নেওয়ার কথা বলে আলোচনার জন্য তাকে জপসা ইউনিয়নের রমেশ মাঝির খেয়াঘাটে যেতে বলা হয়।

লিটনের দাবি, সেখানে গিয়ে তিনি হৃদয় মল্লিক (২৩), রাকিব মাদবর (২১), রানা মাদবর (২২), মানিক মৃধা (২৪)সহ আরও কয়েকজনকে দেখতে পান। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

লিখিত অভিযোগে লিটন খান দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি অভিযুক্তদের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে ডেকোরেটর ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়।

এ ঘটনায় ২২ জুলাই নড়িয়া থানায় একটি মামলা করেন তিনি। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬, ১৪৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেন লিটন।

লিটনের আরও অভিযোগ, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়েরকে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের যোগসাজশ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন লিটন খান। তার মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে হামলার প্রকৃত ঘটনা এবং তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের কথিত যোগসাজশের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘একজন আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শরীয়তপুরে মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রাণনাশের হুমকি

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় মো. লিটন খান (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

লিটন খান নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারের ‘লিটন ডেকোরেটর অ্যান্ড লাইটিং’-এর স্বত্বাধিকারী। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে রাকিব মাদবর নামে এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল ফোনে কল করেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য ডেকোরেটর ও লাইটিং ভাড়া নেওয়ার কথা বলে আলোচনার জন্য তাকে জপসা ইউনিয়নের রমেশ মাঝির খেয়াঘাটে যেতে বলা হয়।

লিটনের দাবি, সেখানে গিয়ে তিনি হৃদয় মল্লিক (২৩), রাকিব মাদবর (২১), রানা মাদবর (২২), মানিক মৃধা (২৪)সহ আরও কয়েকজনকে দেখতে পান। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

লিখিত অভিযোগে লিটন খান দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি অভিযুক্তদের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে ডেকোরেটর ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়।

এ ঘটনায় ২২ জুলাই নড়িয়া থানায় একটি মামলা করেন তিনি। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬, ১৪৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেন লিটন।

লিটনের আরও অভিযোগ, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়েরকে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের যোগসাজশ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন লিটন খান। তার মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে হামলার প্রকৃত ঘটনা এবং তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের কথিত যোগসাজশের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘একজন আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’