পরীক্ষায় বসলেন প্রতারণার শিকার ৮ এইচএসসি শিক্ষার্থী
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
নাটোরের লালপুরে প্রতারণার শিকার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তারা বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। তিনি জানান, গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড থেকে আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা আসে। এরপর দ্রুত তাদের বিষয়টি জানিয়ে বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হলেও পরীক্ষা দিতে পারায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আটজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ৪৬ শিক্ষার্থী এবার বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিচ্ছেন। যেসব শিক্ষার্থী বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য নিকটবর্তী কেন্দ্রে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফরম পূরণের টাকা নিয়েও ফরম পূরণ করা হয়নি
জানা গেছে, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ওই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণের আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে তারা জানতে পারেন, তাদের কারও ফরমই পূরণ করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে তারা অংশ নিতে পারেননি।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। তার নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এরপর তারা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
তবে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছিল না। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে সোমবার তারা বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।





























