প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ
বক্তব্য চাইলেই চটে যান সাতক্ষীরার ডিসি
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 55
সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাওসার আজিজের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের ফোন না ধরা, ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহা এবং বিভিন্ন সময় অপমানজনক আচরণের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাহী কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কথিত অপেশাদার, তির্যক ও অসহযোগিতামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কারাগার ভাঙচুর করে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি আব্দুল আলিম কীভাবে কলারোয়া ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের অসহযোগিতার মুখে পড়েন।
আকরামুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
তার অভিযোগ, জেল পলাতক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন; এমন প্রশ্ন করতেই জেলা প্রশাসক চটে হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কথা না বলে তার করা অন্যান্য প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং যমুনা টেলিভিশনে তার চাকরি নিয়েও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
আকরামুল ইসলামের ভাষ্য, এ সময় জেলা প্রশাসকের কক্ষে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ক্যামেরায় ওই কথোপকথন ধারণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে ক্যামেরাপার্সন ইয়ারুল ইসলামকে ক্যামেরা পরীক্ষা করতে বলেন।
এদিকে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল মোড়ের দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেন এনডিসি তাজুল ইসলাম। অভিযানের বিষয়ে তথ্য জানতে ফোন করলে তাকে বলা হয়, এসব নিয়ে সংবাদ করার প্রয়োজন নেই। পরে তাকে অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরদিন সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে সেখানেও সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন বলেন, সংবাদসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া জেলা প্রশাসকের কাজ নয়; এমন মন্তব্য করে তিনি ফোন রেখে দেন।
একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত আরও কয়েকজন সাংবাদিক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অতীতে কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাংবাদিকরা এমন অসহযোগিতার মুখে পড়েননি।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি। বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহিতা। সে জায়গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য বা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগও উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, অনুষ্ঠানের মঞ্চে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ কারণে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে তারা সবাই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান।





























