রিপাবলিকানের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে টাকার বললেন—‘আই এম আউট’
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 23
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন রিপাবলিকান পার্টির প্রতি তাঁর আজীবন সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর তীব্র অভিযোগ, দলটির বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের জায়গায় বড় ধরনের আপস করেছে। সাম্প্রতিক ‘কান্ট বি সেন্সরড্’ পডকাস্টের একটি পর্বে কার্লসন সাফ জানিয়ে দেন, “আমি আর নেই (আই এম আউট)। কীভাবে আমি বা কোনো আমেরিকান ভোটার এমন একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারি, যে দল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নয় এবং নিজের নাগরিকদের চেয়ে একটি বিদেশি দেশের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়?”
প্রখ্যাত এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নিজেকে গত ৩৫ বছর ধরে রিপাবলিকান দলের একজন ‘ধারাবাহিক সমর্থক’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন। তবে দলটির বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে ‘অনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। কার্লসন যুক্তি দেন যে দলটি তাদের মূল গণতান্ত্রিক দায়িত্বের সম্পূর্ণ পরিপন্থী আচরণ করছে, যেখানে তাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ছিল নিজেদের ভোটার এবং দেশের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে এখন থেকে রিপাবলিকান পার্টিকে সমর্থন করার কোনো সম্ভাবনাই তাঁর নেই এবং তিনি এই পথ বেছে নেওয়ার পর অনেক সাধারণ মানুষও দলটির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে। তবে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেও সমর্থন করবেন না এবং ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা এখনও নিশ্চিত করেননি।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসংক্রান্ত মার্কিন নীতি নিয়ে কার্লসনের ক্রমবর্ধমান সমালোচনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের সঙ্গে তাঁর এই আদর্শিক বিচ্ছেদ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর আগে কার্লসন সরাসরি দাবি করেছিলেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ট্রাম্প ‘ঈশ্বরের ভূমিকা পালনের’ চেষ্টা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
টাকার কার্লসনের এসব ঝাঁঝালো সমালোচনার জবাবে ট্রাম্পও চুপ থাকেননি। তিনি তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কার্লসনকে ‘কম বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি’ (লো আই কিউ পারসন) এবং ‘বোকা’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে কার্লসন এবং তাঁর সহ-ভাষ্যকার মেগান ক্যালির ‘একজন ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করা উচিত।’ অথচ ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম-সমর্থক ছিলেন এই টাকার কার্লসন। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কৌশল ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব তাঁকে ‘প্রতারিত’ অনুভব করিয়েছে বলে কার্লসন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।



































