ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি বিতর্কে মন্ত্রী-নাহিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 11

বর্তমান সংসদের কোনো সদস্যকে আইনগতভাবে ঋণখেলাপি বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন বিরোধী শিবিরের নেতা নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া এক বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কেউ আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত নন।

তার ভাষায়, আইন অনুযায়ী—বিশেষ করে রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডারসহ সংশ্লিষ্ট বিধানে—কোনো ব্যক্তি আদালতের রায়ে ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে তবেই তিনি অযোগ্য বিবেচিত হন এবং সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, সংসদে আসা সদস্যরা ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, তবে সেটিকে ঋণখেলাপি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলা থাকলেও সেগুলোর অনেকই উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, আইনগতভাবে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কাউকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না, এবং এ ধরনের অভিযোগকে তিনি মানহানিকর বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সংসদের ভেতরেও তিনি বিভিন্ন সদস্যের ঋণসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছেন, যদিও নাম প্রকাশ করেননি সম্মান বজায় রাখার কথা বিবেচনা করে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি সংসদের ভেতরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তিনি ইঙ্গিত করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া রাজনৈতিক পক্ষ যদি এমন প্রার্থীদের সংসদে আনে, তবে সেটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সংসদে আইনি ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি বিতর্কে মন্ত্রী-নাহিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বর্তমান সংসদের কোনো সদস্যকে আইনগতভাবে ঋণখেলাপি বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন বিরোধী শিবিরের নেতা নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া এক বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কেউ আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত নন।

তার ভাষায়, আইন অনুযায়ী—বিশেষ করে রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডারসহ সংশ্লিষ্ট বিধানে—কোনো ব্যক্তি আদালতের রায়ে ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে তবেই তিনি অযোগ্য বিবেচিত হন এবং সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, সংসদে আসা সদস্যরা ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, তবে সেটিকে ঋণখেলাপি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলা থাকলেও সেগুলোর অনেকই উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, আইনগতভাবে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কাউকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না, এবং এ ধরনের অভিযোগকে তিনি মানহানিকর বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সংসদের ভেতরেও তিনি বিভিন্ন সদস্যের ঋণসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছেন, যদিও নাম প্রকাশ করেননি সম্মান বজায় রাখার কথা বিবেচনা করে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি সংসদের ভেতরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তিনি ইঙ্গিত করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া রাজনৈতিক পক্ষ যদি এমন প্রার্থীদের সংসদে আনে, তবে সেটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সংসদে আইনি ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।