ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 নরসিংদীতে গ্রাম আদালত প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 10

নরসিংদীতে গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে উপজেলা রিসোর্স টিমের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

সোমবার (১৫ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, নরসিংদীর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়। উপজেলা রিসোর্স টিম (ইউআরটি)-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি গ্রাম আদালত কার্যক্রমের দক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) মোছা. নাদিরা আখতার। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উপস্থিতি আয়োজনটিকে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক অনুশীলনের রূপ দেয়, যেখানে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচনায় আসে।

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আহসানুল হক মিটনের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, গ্রাম আদালত মূলত প্রান্তিক মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি বাস্তবসম্মত মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক স্থিতি কিছুটা হলেও শক্তিশালী হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের ওপর।

সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোছা. নাদিরা আখতার বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জ্ঞান হালনাগাদ না হলে সেবার মান টেকসই করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার মতে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি অর্জিত ধারণাগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং উচ্চ আদালতের ওপর চাপও কিছুটা কমে আসতে পারে।

প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার বিভিন্ন দিক, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার প্রক্রিয়ার হালনাগাদ ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ, যদিও বাস্তব প্রয়োগে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়।

“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নাধীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রকল্পের অংশ।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় পর্যায়ের বিচার ব্যবস্থায় আরও দক্ষতা আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সেবাটি কিছুটা হলেও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

 নরসিংদীতে গ্রাম আদালত প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নরসিংদীতে গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে উপজেলা রিসোর্স টিমের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

সোমবার (১৫ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, নরসিংদীর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়। উপজেলা রিসোর্স টিম (ইউআরটি)-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি গ্রাম আদালত কার্যক্রমের দক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) মোছা. নাদিরা আখতার। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উপস্থিতি আয়োজনটিকে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক অনুশীলনের রূপ দেয়, যেখানে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচনায় আসে।

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আহসানুল হক মিটনের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, গ্রাম আদালত মূলত প্রান্তিক মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি বাস্তবসম্মত মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক স্থিতি কিছুটা হলেও শক্তিশালী হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের ওপর।

সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোছা. নাদিরা আখতার বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জ্ঞান হালনাগাদ না হলে সেবার মান টেকসই করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার মতে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি অর্জিত ধারণাগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং উচ্চ আদালতের ওপর চাপও কিছুটা কমে আসতে পারে।

প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার বিভিন্ন দিক, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার প্রক্রিয়ার হালনাগাদ ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ, যদিও বাস্তব প্রয়োগে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়।

“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নাধীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রকল্পের অংশ।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় পর্যায়ের বিচার ব্যবস্থায় আরও দক্ষতা আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সেবাটি কিছুটা হলেও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।