সিঙ্গাপুর-কানাডা নয় বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 16
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে বলেছেন, “আমরা সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয়, বরং আমাদের নিজেদের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ বা আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।” তিনি বিগত আমলের রাজনৈতিক স্লোগানের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা প্রায়শই অতীতে শুনতাম— বাংলাদেশকে কেউ সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবে, কেউ কানাডা বানিয়ে ফেলবে, আবার কেউ অন্য কোনো দেশের মতো বানিয়ে ফেলবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমার একমাত্র লক্ষ্য ও স্বপ্ন হলো বাংলাদেশকে বর্তমানের চেয়ে একটু বেটার (উন্নত) অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।”
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশকে একটি ভালো ও সুন্দর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার এই বিশাল কাজটি শুধু সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়; এই মহতী কাজের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। দেশকে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধারায় ফিরিয়ে আনতে তিনি সমাজের সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্ভাবনা এবং একে একটি আধুনিক ‘পরিচ্ছন্ন নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “কক্সবাজার শহরে প্রবেশের সময় আমি একটি বিরাট বড় সাইনবোর্ড দেখেছি, যেখানে লেখা আছে— ‘বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত’। আপনারা যারা এখানে উপস্থিত আছেন, তারা সবাই মিলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই কক্সবাজারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই এই পর্যটন শহরকে বিশ্বের বুকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আপনাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা সবাই মিলে চেষ্টা করলে খুব সহজেই কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।”
শুধু পরিচ্ছন্নতাই নয়, বরং কক্সবাজারকে একটি আদর্শ সুশৃঙ্খল শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি আধুনিক শহর চাই যেখানে সবগুলো যানবাহন সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, চালকেরা সুন্দরভাবে নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করবে, ট্রাফিক নিয়ম মেনে রাস্তায় চলাচল করবে এবং সাধারণ মানুষ ও পর্যটকেরা ফুটপাতে হাঁটার সময় নিজেদের পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করবেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে আমি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি। সেসব জায়গায় গিয়ে বর্তমান জনদুর্ভোগ দেখে আমার বারবার মনে হয়েছে, আজ আমরা যে সাধারণ কাজগুলোর কথা বলছি, এই কাজগুলো তো বিগত ১৭ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তা করা হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, “বিগত দীর্ঘ সময়ে অবহেলার কারণে আমাদের সামনে এখন অনেক কাজ জমে গেছে। দেশকে আমূল পরিবর্তন করতে হলে, সমাজকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হলে এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন করতে হলে আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে অনেকগুলো বড় বড় কাজ হাতে নিতে হবে।” এই সময় পর্যটন ও যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়নে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা এবং এই অঞ্চলে একটি বিশেষায়িত ‘মেরিন বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপন করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।
উক্ত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী গভীর রাতে নিজে গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের বিখ্যাত মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন এবং রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশেষ বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।































