ট্রাম্পের ইরান চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ আখ্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 14
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল প্রত্যাশিত ও প্রস্তাবিত ‘ইরান শান্তি চুক্তি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, বিশেষ করে বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র সংশয় ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও এই বিশেষ চুক্তির বাস্তব ফলাফল এবং শর্তাবলী নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শেষ হয়েছে। আমি মনে-প্রাণে আশা করি তাঁর এই দাবিটি যেন সঠিক হয়। কিন্তু আমরা অতীতেও প্রশাসনের কাছ থেকে এমন অনেক বড় বড় কথা শুনেছি, যার পরিণতিতে কেবল একের পর এক প্রতিশ্রুতি vভঙ্গের ইতিহাসই আমরা দেখেছি।” তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাজারে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, উল্টো নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন। তাঁর এই ধরণের হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আমেরিকান সাধারণ জনগণের ওপর বড় ধরনের ক্ষতিকর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”
অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে আরও বেশি কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি এই চুক্তিকে আমেরিকার জন্য কোনো কূটনৈতিক বিজয় নয়, বরং এটি মূলত ‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে সরাসরি আখ্যা দিয়েছেন।
মার্কিন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও দুর্বল একটি চুক্তি। পরিষ্কার ভাষায় বলতে গেলে, এটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে আমেরিকার একটি SARS-নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দলিল মাত্র।” নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে এরই মধ্যে মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অপচয় হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন আমেরিকান সেনাসদস্য। আর এত সব ক্ষয়ক্ষতিতির পর শেষ পর্যন্ত আমরা এমন একটি চুক্তি পাচ্ছি, যার ফলে কেবল এমন একটি নৌ-প্রণালী (হরমুজ প্রণালী) আবার নতুন করে খুলে দেওয়া হচ্ছে, যেটি এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই পুরোপুরি খোলা ছিল। তাহলে পুরো প্রক্রিয়ায় মার্কিন জনগণের প্রাপ্তি কী? এটিকে কীভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিজয় বলা যায়?”
অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ও রিপাবলিকান শিবিরের পক্ষ থেকে এই চুক্তির পক্ষে জোর সাফাই গাওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি, ইরানের সঙ্গে এই সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের চলমান সামরিক উত্তেজনা বহুলাংশে কমিয়ে আনবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে চিরতরে বের করে আনতে সাহায্য করবে।
তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরের আইনপ্রণেতাদের মূল অভিযোগ হলো, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সুবিধা ও জাতীয় নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা ট্রাম্প প্রশাসন দিতে পারেনি। ডেমোক্র্যাটদের মতে, শুধু একটা সাময়িক যুদ্ধবিরতি কিংবা সাময়িকভাবে উত্তেজনা হ্রাস করাকেই কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করা যাবে না; বরং যুদ্ধের পেছনে হওয়া বিশাল অর্থনৈতিক খরচ, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সার্বিক বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতাপূর্ণ ও অস্থিতিশীল সম্পর্কের মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বর্তমানে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন ঝড় ও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউজ এটিকে তাদের একটি historic-ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরলেও, দেশের ভেতরের বিরোধীরা এর শর্ত ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে কঠোর প্রশ্ন তুলছে।




































